ত্রিপুরার পর এবার উত্তর-পূর্বের অপর রাজ্য অসমেও নিজেদের সংগঠন বিস্তারে পা বাড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই অসমের শিবসাগরের বিধায়ক তথা রাজৌর দলের সভাপতি অখিল গগৈকে তৃণমূলে আনতে কোমর বেধে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল। অসমে তৃণমূলের সভাপতি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে তাঁকে, এমনটাই দাবি করেছেন অখিল গগৈ। সংবাদ মাধ্যমের কাছে তাঁর এবং তৃণমূলের এই ‘বন্ধুত্বের’ কথাও তুলে ধরেছেন অখিল। আরটিআই কর্মী, অসমের বিধায়ক সর্বোপরি অসমে সিএএ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯ মাস জেলে কাটিয়েছেন অখিল গৈগ। সেই তিনিই এখন চাইছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী দেখতে। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন এই নেতা।
প্রঃ তৃণমূলের থেকে কোনও অফার পেয়েছেন?
উঃ হ্যাঁ, আমাকে তৃণমূলের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা বলেছি। সম্প্রতি আমি কলকাতায় গিয়ে আলোচনা করেছি। ওঁরা আমাকে অসমের তৃণমূল সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কথা চলছে, খুব শীঘ্রই আমার মতামত জানিয়ে দেব। আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি।
প্রঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে আপনার কী বক্তব্য?
উঃ আমরা সকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবাসি। কারণ তিনি মৌলবাদী ফ্যাসিস্তদের বিরুদ্ধে লড়ছেন। তিনি লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বার্থে। তাঁর দাবিগুলি ন্যায্য। আমরা তাঁকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছি। আমরা চাই আঞ্চলিক দলগুলি জোট বাঁধুক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হোন। আমরা তিন মাস পর আবার আলোচনায় বসব এবং পরিকল্পনা করেই সামনের দিনে এগোব।
প্রঃ আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ দেবেন?
উঃ একটা বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়া ভালো, আমরা নিশ্চিতভাবেই ২০২৪ ও ২০২৬ সালে একজোট হয়ে লড়ব। প্রশান্ত কিশোরও রয়েছেন। আমরা নিশ্চিত, এই কেন্দ্রীয় সরকারকে একজোট হয়ে বিদায় করতে পারব।
প্রঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ প্রতিবাদকে সমর্থন করেন?
উঃ অবশ্যই। আমরা তাঁকে সমর্থন করি। কারণ আমরাও এই বিষয়ে প্রতিবাদ আন্দোলন চালাচ্ছি। আমি সিএএ-র প্রতিবাদ করে ১৯ মাস জেলে ছিলাম। আমরা সিএএ-র বিরুদ্ধে রাস্তায় আছি এবং মমতা দি’র সমর্থনও পাচ্ছি।

