ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের সিইএম দেবোলাল গর্লোসার হস্তক্ষেপের এক সপ্তাহের মধ্যেই হাফলং বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য হ্রাস পেতে থাকে আলু, পেঁয়াজ,ডিম, মাছ, মাংস সহ ফলমূলের। বিশেষ করে বাজারে গড়ে ওঠা অবৈধ সিন্ডিকেটের জন্যই শৈল শহরের সবকটি বাজারে গত প্রায় দুই বছর ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর আকাশ ছোঁয়া দাম বৃদ্ধি পায়।কিন্তু এত সবের পর নীরব ভূমিকায় ছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ তথা প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেন পরিষদ প্রধান এবং তিনি সংবাদ মাধ্যমের কেমেরার সম্মুখে শহরবাসীকে আশ্বস্ত করে ছিলেন যে এখন থেকে সিন্ডিকেটরাজ চলবেনা। তবে কথামতো ব্যবস্থা নেন। এর আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজের ইচ্ছে মত মার্কেটিং করতে পারতেন না। সিন্ডিকেট ব্যবস্থার নিয়মমাফিক একচেটিয়া দরে পণ্য সামগ্রী ক্রয় করতে হতো। অসমের হোজাই, লংকা বা লামডিংয়ে আলু দশটা কিলো খুচরো দরে বিক্রি হলেও হাফলঙে সাধারণ জনগণকে কিলো প্রতি পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকায় ক্রয় করতে হয়েছে। এমনকি শুঁটকির ব্যবসায়েও সিন্ডিকেট। হাফলং বাজারের জনৈক শুঁটকি ব্যবসায়ী বলেন ‘ সিন্ডিকেটকে কমিশন দিতে হয় তাহলে পঞ্চাশ টাকার সত্তর আশি টাকা হবেই। কারণ আমাদেরকেও চলতে হবে। হাফলং বাজারে সিন্ডিকেটের দৌলতে প্রতিপ্লেট ডিমের দাম ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকা।
তবে সিন্ডিকেটমুক্ত হওয়ায় এইমুহুর্তে হাফলং বাজারে প্রতিপ্লেট ডিমের দাম হয়েছে ১৮০ টাকা। অনুরূপ ভাবে আলুর দামও প্রতি কিলোতে তিন থেকে চার টাকা কমেছে। এদিকে চালানি মাছের দাম ২৩০ টাকার পরিবর্তে এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় প্রতি কিলো বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির মাংস ৩২০ টাকার জায়গায় প্রতি কিলো ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু লোকাল মুরগি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা করে কিলো বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ফলমূলও সিন্ডিকেটের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো, কিন্তু এখন ফলমূল সিন্ডিকেট মুক্ত বলে ব্যবসায়ীরা জানান।তবে কতদিন হাফলং বাজার সিন্ডিকেটমুক্ত হয়ে চলে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়া হাফলং বাজারের একাংশ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ যে সিন্ডিকেট চক্রে বাজারের একাধিক বহিরাগত ব্যবসায়ীরাই জড়িত।এমনও অভিযোগ রয়েছে যে হোজাই বা নিলাম বাজার থেকেই এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হয়। যার মাশুল গুনতে হয় স্থানীয় জনগণকে। তাই এব্যপারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সজাগ থাকার পাশাপাশি পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদকে এই চক্রের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।

