শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

আসাম মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন প্রাক্তন বিধায়ক হাফলংবার

পার্বত্য জেলার ২৬/৮এর দিয়ুংব্ৰা কাণ্ড নিয়ে প্রতিবেশী হোজাই জেলার পরিস্থিতি আজও থমথমে। একই এলাকার চার চালকের মৃত্যু নিয়েই বিভিন্ন দল সংগঠন ডিমা হাসাও বিরোধী স্থিতি নিয়ে পথ অবরোধ করছে। এমনকি ডিমা হাসাও মুর্দাবাদ স্লোগান চলছে। অথচ সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে রয়েছে। আর এতেই নড়েচড়ে বসেছে অসমের ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। রবিবার হাফলং রাজীব ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিত্‍ হাফলংবার এবং পরিষদ সদস্য ড্যানিয়াল লাংথাসা।সমরজিত্‍ হাফলংবার বলেন, আজ আমি অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার উদ্দেশ্যে এক পত্র প্রেরণ করে দিয়ুংব্ৰা ইস্যুতে হোজাই জেলার লংকা বা উদালিতে যে ভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানাই। এমনকি ঘটনার বাহাত্তর ঘন্টা পরও সরকার এই ঘটনার পেছনে কে জড়িত রয়েছে স্পষ্ট করতে পারেনি।এদিকে হোজাই জেলার লংকার চার চালককে হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়দের মধ্যে আজও ক্ষোভ রয়েছে। এমনকি পৃথক কোনো জাতি জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি ডিমা হাসাও বিরোধী কার্যকলাপে আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তাই যাতে এই ঘটনার জেরে সাম্প্রদায়িক রূপ না নেয় এবং পথ চলাচলে ডিমা হাসাও জেলার সাধারণ জনগণকে অযথা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে না হয় তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। এছাড়া ডিমা হাসাও এবং হোজাই জেলার লংকার জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় এবং শান্তি সম্প্রীতি অটুট থাকে তার জন্য দুই জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্বশাসিত পরিষদ সদস্য ড্যানিয়াল লাংথাসা বলেন, ‘ দিয়ুংব্ৰাতে পাঁচ চালককে হত্যা করা হয়েছে। হোজাই জেলার লংকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ডিমা হাসাও জেলার সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার বেপরোয়া। ড্রাগস পাচার ধরতে পুলিশ বেশ তত্‍পর। অথচ পাঁচ নিরীহ ট্রাক চালকের মৃত্যু সরকার গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে না। আজ অবধি মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্তবিশ্ব শর্মা ডিমা হাসাও জেলায় আসার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন নি। সরকারের ব্যর্থতার সুবাদে সমগ্র ডিমাসা জনগোষ্ঠীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

ড্যানিয়াল লাংথাসা বলেন, ‘ আমি নিজে ভুক্তভোগী। আমার বাবা নিন্দু লাংথাসাকে ২০০৭ সালের ৪ জুন হত্যা করা হয়েছে। আজও ন্যায় পাইনি। তবে ন্যায়ালয়ের উপর ভরসা রয়েছে। পার্বত্য প্রশাসনে দুর্নীতি চরমে উঠেছে। কোনো অভিযোগ করেও কাজ হচ্ছে না।ড্যানিয়াল বলেন ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁরা ভিস্তাডোম ট্যুরিস্ট স্পেশাল নিয়ে ব্যস্ত। এদিকে প্রশাসন কি করছে বলা মুশকিল। অথচ মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছিলেন ডিএনএলএ শেষ। অথচ পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে ডিএনএলএর দিকে সন্দেহের তীর। পরিষদ সদস্য লাংথাসা বলেন ডিমা হাসাও জেলায় একজন শক্তিশালী নেতার দরকার।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *