শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

আসামে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন : ডিএনএলএকে মূলস্রোতে আসার আহ্বান

দিয়ুঙব্রাতে পাঁচ ট্রাক চালককে হত্যা ছাড়া পাঁচটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে ছারখার করা ঘটনার দায় আজ অবধি কোনোও উগ্রপন্থী সংগঠন সমঝে নেয়নি। কিন্তু পুলিশ ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ডিএনএলএ)র দিকে সন্দেহের তীর মারছে। পুলিশ সুপার জয়ন্ত সিংয়ের মতে ‘এই ঘটনায় ডিএনএলএ জড়িত থাকার সন্দেহ ‘। অনুরূপ ভাবে পুলিশ সঞ্চালক প্রধান ভাস্করজ্যোতি মহন্তও কোনোও সংগঠনের নাম নেয়নি যদিও কিন্তু তিনি বলেন ডিমাসা সংগঠন হবে।

এদিকে দিয়ুঙব্রা কাণ্ডের জেরে অসমের হোজাই জেলার লংকা এবং উদালিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে অনেকটা শান্ত।তবে শান্ত ডিমা হাসাওয়ে অশান্তির কালো মেঘ নিয়ে উদ্বিগ্ন ডিমাসাদের সর্বোচ্চ সংগঠন জাদিখে নাইশ্বো হসম। অনুরূপ ভাবে ছাত্র সংগঠন ডিমাসা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এবং আডসু তথা ডিমাসা মাদার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিমা জ্বালাই হসম নেতৃত্ব চিন্তিত।আর তাই গতকাল উপরোক্ত পাঁচটি সংগঠন যৌথ ভাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে দিয়ুঙব্রা কাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান।

ডিমাসা অ্যাপেক্স বডি জাদিখে নাইশ্বো হসমের উপ সভাপতি অধ্যাপক সর্বজিত্‍ থাওসেন বলেন , ‘ বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর উন্নত তথ্য প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে হিংসা পরিহার করে কাগজ কলমের ক্ষমতা প্রদর্শন করে নিজেদের অধিকার আদায়ে ব্রতী হতে হবে। তাছাড়া সরকারের প্রতি ক্ষোভ ব্যক্ত করার আরও অনেক পথ রয়েছে। তা না করে অসামাজিক কার্যকলাপ বা বন্দুক সংস্কৃতি দিয়ে তা সম্ভব নয়। তাই আলোচনার টেবিলে এসে কথা বার্তার মধ্য দিয়ে সমাধান সুত্র বের করতে হবে।’

অধ্যাপক থাওসেন ডিএনএলএ গোষ্ঠীকে উপরোক্ত পথ অনুকরণ করার আহ্বান জানান।ডিমাসা স্টুডেন্ট ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রমিত সেঙ্গুইন এবং আডসু জেলা সভাপতি উত্তম লাংথাসাও উগ্রপন্থী সংগঠন ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মিকে মূল স্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারকেও সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানান।এদিকে প্রাক্তন ডিএইচডি (জে) সদস্য তথা ডিমা জ্বালাই হসমের সম্পাদক প্রবীণ হাগজার ডিএনএলএ গোষ্ঠীকে হিংসা ছেড়ে শান্তি আলোচনায় আসার বিনম্র অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারে রাত প্রায় পৌনে নটা নাগাদ অসমের ডিমা হাসাও জেলার দিয়ুঙব্রা থানার অন্তর্গত রেঞ্জার বিল এলাকায় সন্দেহযুক্ত উগ্রপন্থীরা উমরাংশু থেকে লংকা অভিমুখে যাওয়ার সময় পাঁচটি ট্রাককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালনার পর পাঁচটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পাঁচ ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোজাই জেলার লংকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবশ্য বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। তাছাড়া জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *