শিরোনাম
শনি. ফেব্রু ৭, ২০২৬

বিএফডিসির সমিতিগুলোর ভুল–বোঝাবুঝির অবসান

প্রায় এক বছরের বেশি চলচ্চিত্র অঙ্গনে অস্থিরতা চলছিল। এই অস্থিরতার শুরু সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে, এমন অভিযোগই সেই সময় করেছিলেন প্রযোজক সমিতির নেতারা। প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম তখন জানিয়েছিলেন, ‘আমরা এক লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। কিন্তু জায়েদ চলচ্চিত্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড করে। তাই তার সদস্যপদ আমরা সাময়িক স্থগিত করি এবং বয়কটের সিদ্ধান্ত নিই।’ কিন্তু শিল্পী সমিতির নেতাদের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ, তাঁরা জানেন না। কোনো সংগঠন থেকে লিখিত কোনো চিঠিও পাননি। তাঁদের বিপদে ফেলতেই বাইরে থেকে ষড়্‌যন্ত্র হচ্ছে। পরে গত বছরের জুলাই মাসে সব সংগঠন এক হয়ে মিশা-জায়েদকে বর্জন করে।

নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জন্য আবেদন করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। তার পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি সবাইকে এক করার উদ্যোগ নেয়। অবশেষে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠনের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটল। তারা সবাই এখন চলচ্চিত্রের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করতে চায়। শনিবার চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির অফিসে সব সংগঠনের নেতারা এই সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে আসেন। পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছু ভেদাভেদ ছিল। আমরা সবাই বসে আজ মিলিত হয়ে গেছি। এক জোট হয়ে এখন ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের ১৮টি সংগঠনের প্রায় সবাই চাইছেন চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিরোধ থাকলে কখনোই এটা সম্ভব নয়।’

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘যাঁরা আমাদের বিরুদ্ধে ছিলেন, আজ তাঁরা সবাই মিলে বসেছিলাম। আমার ও মিশার ওপর বর্জনের ডাক তাঁরা উঠিয়ে নিয়েছেন। হাতে গোনা চার–পাঁচজন সংগঠনগুলোর মধ্যে ইচ্ছা করে দূরত্ব তৈরি করে রেখেছিলেন। আমরা সবাই মিলে উদ্যোগ নিয়েছি। এখন আর আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব, ভুল–বোঝাবুঝি নেই। এখন সবাই এক লক্ষ্যে কাজ করব। এই ঐক্য আমরা বজায় রাখব।’

চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ ১৮ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভায় উপস্থিত ছিলেন। এক হতে চান কি না, এমন প্রশ্নে উপস্থিত সবাই হাত উঠিয়ে সায় দেন। করোনায় চলচ্চিত্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখনো হলে নতুন সিনেমা নেই। নেই দর্শক। এর মধ্যেই গত এক বছরে অনেকেই বেকারও হয়েছেন। সব সংগঠনের কাজের গতি আনবে এই সিদ্ধান্ত, এমনটাই মনে করছেন আলোচনায় উপস্থিত সবাই। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাকির হোসেন রাজু, ডিপজল, শাহীন সুমন, মাসুম বাবুল, রুবেল প্রমুখ। সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *