শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে ১০ বছরে নিহত ৩ লাখ ৫০ হাজার

???????????????????????

সিরিয়ায় ১০ বছর চলমান গৃহযুদ্ধে তিন লাখ ৫০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে। গৃহযুদ্ধে দেশটিতে হতাহতের সংখ্যা নতুন করে গণনার পর শুক্রবার এই তথ্য জানান জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেট।

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা তিন লাখ ৫০ হাজার দুই শ’ নয়জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি যারা ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সিরিয়ায় যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।’

তবে এটিই সম্পূর্ণ গণনা নয় বলে উল্লেখ করে মিশেল ব্যাশলেট বলেন, ‘একে সিরিয়ার যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট হতাহতের সম্পূর্ণ গণনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না। এই সংখ্যার হেরফের হতে পারে এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে এটি নিশ্চিতভাবে কম।’

২০১৪ সালের আগস্টের পর এটিই প্রথম সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা গণনা। ওই সময় পর্যন্ত সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ছিলো এক লাখ ৯১ হাজার তিন শ’ ৬৯ জন।

মিশেল ব্যাশলেট জানান, মোট নিহতের মধ্যে প্রতি ১৩ জনে একজন নারী ও একজন শিশু।

১০ বছরের অন্তত ২৬ হাজার সাত শ’ ২৭ নারী ও ২৭ হাজার এক শ’ ২৬ শিশু নিহত হওয়ার তথ্য নতুন গণনায় পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোক সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের আলেপ্পো প্রদেশে নিহত হয়েছে বলে জানান ব্যাশলেট। দশ বছরের গৃহযুদ্ধে এই প্রদেশে মোট ৫১ হাজার সাত শ’ ৩১ জন নিহতের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

এছাড়া দামিশক প্রদেশে ৪৭ হাজার চার শ’ ৮৩ জন, হিমস প্রদেশে ৪০ হাজার নয় শ’ ৮৬ জন, ইদলিব প্রদেশে ৩৩ হাজার দুই শ’ ৭১ জন, হামা প্রদেশে ৩১ হাজার নয় শ’ ৯৩ জন ও তারতুস প্রদেশে ৩১ হাজার তিন শ’ ৬৯ জন নিহতের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

২০১১ সালের মার্চে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার একনায়ক বাশার আল আসাদের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাস্তায় বিক্ষোভে নামে সাধারণ জনতা। বাশার আল-আসাদ সামরিক উপায়ে এই বিক্ষোভ দমন করতে চাইলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে দেশটি।

দশ বছর চলমান এই গৃহযুদ্ধে দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকই বাস্তুচ্যুত হয়। জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসারে এক কোটির বেশি লোক যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে অন্তত ৬৬ লাখ সিরিয়ান গত ১০ বছরে দেশ ছেড়েছেন। দেশ ত্যাগ করা এই সকল সিরিয়ান নাগরিক প্রতিবেশী তুরস্ক, জর্দান, লেবানন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *