সোমবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বনধের সমর্থনে পথে নামছে পশ্চিমবঙ্গের বামেরা। ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারী কর্মীদের সংগঠন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি বনধকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। কংগ্রেসও বনধকে সমর্থন করবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি কৃষকদের দাবিকে সমর্থন করলেও, বনধকে সমর্থন করেন না।
বনধের সমর্থনে পথে নামছে বামেরা
তিনটি কৃষি বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে আইনে পরিণত হওয়ার বর্ষপূর্তির দিনে ভারত বনধের ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। সেই বনধকে সমর্থন জানিয়ে সোমবার সকাল থেকেই পথে নামতে চলেছে বামেরা। বনধের সমর্থনে এন্টালি মার্কেট থেকে কেন্দ্রীয় মিছিল বের করবে রাজ্য বামফ্রন্ট। ধর্মঘটের সমর্থনে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত রয়েছে সকাল সাড়ে ছটায়। এসইউসি বনধের সমর্থনে সকাল ১০ টা নাগাদ কালীঘাট পার্ক থেকে মিছিল বের করবে। বনধের সমর্থনে সকাল আটটায় চিড়িয়ামোড়ে বিক্ষোভ ও মিছিল বের করবে বামেরা।
সমর্থন করছে না তৃণমূল
এদিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছে, তৃণমূল এই বনধকে সমর্থন করছে না। তিনি কৃষকদের দাবি পাশে রয়েছে। দরকারে তিনি পঞ্জাব, হরিয়ানাতেও যাবেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল বনধ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। সেই অবস্থান বজায় থাকবে ২৭ সেপ্টেম্বরেও। শাসকদল বনধকে সমর্থন না করায় প্রায় সব কিছুই রাজ্যে খোলা থাকতে চলেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
সমর্থনে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন এবং কো-অর্ডিনেশন কমিটি
২৭ সেপ্টেম্বরের বনধকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন। ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনও এই বনধকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। সারা ভারত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এই বনধের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এই ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটিও নৈতিকভাবে এই বনধকে সফর করার ডাক দিয়েছে। তবে কো-অর্ডিনেশন কমিটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দোহাই দিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করার মুখ্যসচিবের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। অতীতে আয়লা কিংবা আম্ফানের সময়েও এই ধরনের আদেশনামা জারি করা হয়নি। ফলে ছুটি বাতিলের আদেশ নামার জুজু দেখিয়ে সরকার বনধকে বানচাল করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।
কংগ্রেসের সমর্থন
২৭ সেপ্টেম্বরের বনধকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন বনধের কারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। কৃষক বিরোধী কালা আইনের পাশাপাশি মোদী সরকার দেশের সম্পদ বিক্রি করার চেষ্টা করছে। আর তারই বিরুদ্ধে কংগ্রেস, বলেছে অধীর চৌধুরী।
বনধে সমর্থন আইএসএফ-এরও
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বনধ সাধারণ মানুষের জন্য। এমনটাই মন্তব্য করেছেন আইএসএফ-এর একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। কৃষকদের ছাড়াও, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, জাতীয় সম্পত্তি বিক্রির বিরুদ্ধে যে বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে, তাকে আইএসএফ সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন নওশাদ। রাজ্যে যেখানে যেখানে তাদের শক্তি রয়েছে, সেইভাবেই তারা বনধ পালন করবেন বলে জানিয়েছেন নওশাদ।

