শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের পথ খুঁজছেন বাইডেন

।। ডেনিয়েল রাসেল ।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি ফোনালাপ নিয়ে নানা জল্পনা ডালপালা মেলেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের দেওয়া সম্মেলনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, এমন খবর বেরিয়েছে। যদিও এ দাবি অস্বীকার করেছেন বাইডেন। চীন সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পক্ষ কেবল ‘বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবে’।

এখন স্পষ্ট, বাইডেন প্রশাসন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের পথ খুঁজছে। সেটা যদি সম্ভব না–ও হয়, যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমন্বয় কিংবা সহযোগিতা বাড়াতে চায় তারা। কিন্তু চীন কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। চীনা সূত্র থেকে জানা গেছে, চিন পিং ফোনালাপের সময় একই ভোঁতা শর্ত, যা তিনি আমেরিকার জলবায়ু দূত জন কেরিকে দিয়েছিলেন, সেটারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। চিন পিংয়ের শর্ত হচ্ছে, আমেরিকা চীনের কাছ থেকে ততক্ষণ কোনো সহযোগিতা প্রত্যাশা করতে পারে না, যতক্ষণ না তারা ‘চীনের মূল স্বার্থগুলোর প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে’। বাইডেন প্রশাসনের ওপর চীন যে হতাশ, তা প্রকাশে তারা রাখঢাক করছে না। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর চীন বড় আশা করেছিল, বাইডেন প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্টো পথে চলবে। চীন যাতে তাদের বিদেশনীতি এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে, সে জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেবে। কিন্তু আমেরিকার তরফে নানা পদক্ষেপ চীনের সেই আশায় জোর ধাক্কা লেগেছে।

চিন পিংকে ফোন দিয়ে এবং তাঁকে ফোনালাপে এনে বাইডেন সঠিক কাজটা করেছেন। সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর থেকে দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য আর কোনো পথ খোলা ছিল না। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যাপারে বাইডেনের প্রস্তাব চিন পিং প্রত্যাখ্যান করুন আর না–ই করুন, আগামী শরতের আগে তাঁদের মধ্যে একটা বৈঠক হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। ওই সময়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনও একই সময়ে। সিপিসির ওই সম্মেলন চিন পিংয়ের জন্য বাঁচা-মরার ব্যাপার। মাও সে–তুংয়ের সমান মর্যাদা অর্জন করতে হলে তাঁকে আরও এক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হতে হবে। আবার আমেরিকার আইনসভা নির্বাচনে বাইডেনের ক্ষমতা কমবে না বাড়বে, সেটার দিকে তাঁর তীক্ষ্ণ নজর থাকবে।

চীনের অনেকে দাবি করছেন, চিন পিংয়ের কাছে বাইডেন প্রস্তাব দেওয়ার কারণে এটাই প্রমাণিত হয়, আমেরিকা দুর্বল হয়ে গেছে। তাঁদের তত্ত্ব হচ্ছে আমেরিকাকে এখন চীনের যতটা দরকার, তার চেয়ে চীনকে এখন আমেরিকার বেশি দরকার। কিন্তু আমেরিকার রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে এমন ধারণা করলেও ভুল হবে। বাইডেন প্রশাসন যোগাযোগের একটা গুরুত্বপূর্ণ দুয়ার খুলে দিয়েছে। চিন পিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপের পর বাইডেন প্রশাসন ইউরোপ ও ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে তাদের আত্মবিশ্বাসপূর্ণ কূটনীতি আবার চালু করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের এক সপ্তাহের মধ্যে বাইডেন আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটা নতুন ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোটের (এইউকেইউএস) ঘোষণা দেন।

উপরন্তু বাইডেন এ সপ্তাহে আমেরিকা, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোয়াডের সম্মেলন আয়োজন করেন। আসছে ২৯ সেপ্টেম্বর বাইডেন প্রশাসন আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিষয়ে মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এসব সম্মেলন মিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে বাইডেন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটার একটা সৃজনশীল বহিঃপ্রকাশ। যৌথ নিরাপত্তা জোরদার এবং একে অন্যকে বাস্তব সুবিধা দেওয়ার দুই লক্ষ্য এতে পূরণ হচ্ছে। গত মার্চ মাসের কোয়াডের ভার্চ্যুয়াল সভার চেয়ে এবারের সরাসরি সভা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে।

চীনের পেছনে ছোটা আমাদের কাজ নয়, বরং ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর প্রকৃত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট; ● ডেনিয়েল রাসেল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *