শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

পাশাপাশি থেকেও মনে মনে কনকচাঁপাকে খুঁজতেন শাবনূর

‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘আমার নাকেরই ফুল বলে রে’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’—পর্দায় কনকচাঁপার গাওয়া এমন অনেক জনপ্রিয় গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন শাবনূর। জনপ্রিয় এই গায়িকা এবং অভিনেত্রী জুটি পর্দায় বারবার মিলিত হলেও বাস্তবে তাঁদের খুব একটা দেখা হতো না। অথচ তাঁরা কাছাকাছি থাকতেন। এক ফেসবুক পোস্টে সম্প্রতি বিষয়টি জানিয়েছেন কনকচাঁপা।

কনকচাঁপা মনে করেন, প্লেব্যাকের উজ্জ্বল সময়টা তিনি প্রধানত শাবনূরের জন্যই গেয়েছেন। তাঁরা দুজন ছিলেন দুই দেহ এক উপস্থাপন। কনকচাঁপা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি গাইলে নাকি ডিরেক্টরদের মনে হতো তিনিই গাইছেন। অনেকেই এই ঠোঁট মিলে যাওয়া বা আবেগ মিলে যাওয়া অথবা বলা যায় একাত্ম হয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব আমাকে দিতে চান। আমি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করি। কারণ, আরও নায়িকার লিপে আমি গেয়েছি কিন্তু এমন একাত্ম হওয়া যায়নি হয়তো, সে ক্ষেত্রে আমি শাবনূরের অত্যাশ্চর্য অভিনয়কেই বেশি মূল্যায়ন করি। তিনি অনেক উঁচু দরের অভিনয়শিল্পী। এসব কথা বা ব্যাখ্যা অথবা বাস্তব ঘটনা যাঁরা ছবি দেখতেন বা ছবির ভক্ত ছিলেন, তাঁরা সবাই হয়তো জানেন।’

শাবনূরের সঙ্গে খুব কম দেখা হলেও তাঁদের মধ্যে ছিল আত্মিক সম্পর্ক। এই সম্পর্কে কনকঁচাপা লিখেছেন, ‘একটি কথা সবার একদম অজানা। পুরো পেশাদার জীবনে শাবনূর আর আমার খুব কম দেখা হয়েছে। প্লেব্যাকের প্রথম দিকে দুজন মিলে একটা টিভি চ্যানেলের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। এরপর হঠাৎ হঠাৎ হয়তো চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট কোনো অনুষ্ঠানে মিতবাক শাবনূরের সঙ্গে আমার খুবই কম সময়ের জন্য দেখা হয়েছে। দু-একটি বাক্য বিনিময় ছাড়া আর কিছু হয়নি।’

অথচ পাশাপাশি থাকতেন তাঁরা। একবার ছেলে মাশুকের বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে শাবনূরকে এ কথা বলেন কনকচাঁপা। শুনে সেদিন অবাকই হয়েছিলেন শাবনূর। কনকচাঁপা লিখেছেন, ‘আমার বাসা তার বাসার কাছাকাছি শুনে বললেন, “ও আল্লাহ! তাইলে তো আপনার নিশ্বাসও আমি পাই, অথচ মনে মনে আমি আপনাকে কত খুঁজি।” সেদিন শাবনূরের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছিলেন এই গায়িকা। ‘বাসা থেকে খেয়েদেয়েই বের হয়েছিলাম। কিছুতেই না খেয়ে আসতে দিলেন না (শাবনূর), সেই দুপুরে দুবার খেতে হলো। নিজ হাতে বেড়ে বেড়ে নিজের করা রান্না খাবার আমাদের খাওয়ালেন,’ বলেন কনকচাঁপা।

বেশির ভাগ পর্দায় দেখা শাবনূরকে সরাসরি দেখে চমকে গিয়েছিলেন কনকচাঁপা, ‘বারবার নিরাভরণ মেকআপহীন শাবনূরের চোখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তাঁর চোখ এত সুন্দর, এত গভীর, এত চঞ্চল এবং এত কান্না সে চোখে যে বেশিক্ষণ সে নয়নপানে তাকানো যায় না! কিন্তু সে চলাবলায় এত ভোলাভালা যে বারবার আনমনা হয়ে ভাবছিলাম এই মানুষ এত নিখুঁত অভিনয় কীভাবে করেন! কীভাবে পারেন! আমাকে জোর করে সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখালেন।’

কনকচাঁপার ছেলের বিয়েতে ঠিকই এসেছিলেন শাবনূর। কনকচাঁপা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার ছেলের বিয়েতে মজা করে খাবার খেলেন, ভক্তদের সবার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে হেসে হেসে, ধৈর্য ধরে এত ছবি তুললেন যে আমরা সবাই বিস্মিত হয়ে গেলাম। সত্যিই আমরা গর্বিত হতে পারি যে আমাদের একজন শাবনূর আছেন, যার নামের আগে পিছে কোনো বিশেষণ লাগে না।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *