শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

মস্কোয় রাশিয়া, চীন, পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাবুলে ক্ষমতা দখলের পর মস্কোয় সবচেয়ে বড় বৈঠকে যোগ দিয়েছে তালেবান নেতৃত্ব। রাশিয়া ছাড়াও চীন ও পাকিস্তান ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছে।
কাবুলে ক্ষমতা দখলের পর মস্কোয় সবচেয়ে বড় বৈঠকে যোগ দিয়েছে তালেবান নেতৃত্ব। রাশিয়া ছাড়াও চীন ও পাকিস্তান ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য এশিয়ায় ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে মস্কোয় বৈঠকের আয়োজন করেছে রাশিয়া। সেখানে আহ্বান জানানো হয়েছিল তালেবান নেতৃত্বকে। বুধবার সেই বৈঠকে তালেবান নেতৃত্বের সঙ্গে ক্রেমলিনের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, বিবিধ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে তালেবানের সঙ্গে। তবে এখনই তালেবানকে তারা স্বীকৃতি দিচ্ছে না। ওই বিষয়টি আলোচনাসূচিতেও রাখা হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তালেবানও।

মস্কোয় তালেবান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তালেবান প্রশাসনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আবদুল সালাম হানাফি। বুধবার তার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারজেই লাভরভের। তালেবান নেতৃত্বের কাছে একটি কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে রাশিয়া।

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট (আইএসকেপি) জঙ্গিদের উত্থান নিয়ে তারা চিন্তিত। তথ্যসহ ইলামিক স্টেটের কার্যকলাপ নিয়ে তালেবান নেতৃত্বের উপর রীতিমতো চাপ তৈরি করেছে রাশিয়া।

দিনকয়েক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানের জমি ব্যবহার করছে আইএস জঙ্গিরা। আফগানিস্তান থেকে তারা পুরনো সোভিয়েতের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছে। রাশিয়াতেও তারা ঢোকার চেষ্টা করছে।

এদিনের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সব মিলিয়ে দুই হাজার আইএস জঙ্গি আফগানিস্তানে জড়ো হয়েছে। শরণার্থীর ছদ্মবেশে তারা মধ্য এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়ার দাবি, তালেবানকেই এর মোকাবিলা করতে হবে। আইএস জঙ্গিরা যাতে আফগানিস্তানে জায়গা না পায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

এর পাশাপাশি তালেবানের সঙ্গে মানবিক বিষয়, অধিকারের বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। তালেবান যাতে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়, তা নিয়ে কথা হয়েছে দুইপক্ষের।

বৈঠক শেষে তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, এই আলোচনা আরও অনেক দূর এগোবে। তবে রাশিয়া যে এখনো তাদের স্বীকৃতি দেয়নি, তা নিয়ে তালেবান মুখপাত্র কোনো আলোচনা করেননি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তালেবান নেতৃত্ব কথা রাখেনি বলেই তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তালেবান পুরোপুরি ক্ষমতা দখলের আগেই রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছিল, পুরো আফগানিস্তানের প্রতিনিধি নিয়ে তালেবানকে সরকার গঠন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সে কারণেই রাশিয়া তাদের স্বীকৃতি দেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভবিষ্যতে তালেবান সবাইকে নিয়ে সরকার গড়লে কী হবে, তা নিয়ে অবশ্য তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে রাশিয়া যে মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, তা পরিষ্কার। সে কারণেই সব দেশ বন্ধ করলেও রাশিয়া কখনোই কাবুলের দূতাবাস বন্ধ করেনি। চীন এবং পাকিস্তানও তা বন্ধ করেনি। মস্কোর বৈঠকে তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *