বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের জের শেষ পর্যন্ত আঁছড়ে পড়লো আসামের পার্বত্য ডিমা হাসাও জেলায়। শুক্রবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে জেলা সদরের ছাব্বিশটি সংগঠনের কয়েক হাজার লোক বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে হাফলঙের রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেন। হাতে হাতে প্লেকার্ড নিয়ে এদিন সকাল ন’টা থেকে কালচারাল ইনষ্টিটিউট হলে পুরুষ মহিলা যুবক যুবতীরা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সাড়ে দশটায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিল শহরের রাজপথে নামে। ‘ জয় শ্রীরাম এবং ভারত মাতা কী জয় ‘ ধ্বনিতে আকাশ বাতাস একাকার হয়ে ওঠে। এদিন বাংলাদেশ কাণ্ড নিয়ে পুরুষ মহিলা যুবক যুবতীদের সমান ভাবে সোচ্চার থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার আসামের হাফলং শহরের প্রায় দোকান পাট বন্ধ করেই ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করেন। ‘ হাসিনা সরকার হোশিয়ার, মৌলবাদীরা হোশিয়ার ‘ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।
এদিনের প্রতিবাদ মিছিলে হিন্দু বিভিন্ন জাতি জনগোষ্ঠীয় সংগঠনের নেতারা সামিল হোন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ছাড়া ইসকন, জাদিখে নাইশ্বো হসম, হেরেক্কা অ্যাসোসিয়েশন, রামকৃষ্ণ সেবা সমিতি, জগন্নাথ বাড়ি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, বাঙালি কল্যাণ পরিষদ, ডিমা হাসাও সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, সৎসঙ্গ বিহার, শিবারাই বিসমাই বসম, অখণ্ড মণ্ডলী, রামঠাকুর সংঘ, মহিলা শক্তি মণ্ডল, সেবিকা সমিতি, রাধারমন সেবা সমিতি প্রমুখ সংগঠন। প্রতিবাদ মিছিল শহরের রাজপথ ধরে স্বশাসিত পরিষদ রোটারি পরিক্রমা করে জেলাশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জেলাশাসক মারফত স্মারকপত্র প্রেরণ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশেও এদিন স্মারকপত্র ইমেল করা হয় বলে জানান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সভাপতি অনিল দাওলাগুপু। দাওলাগুপু এদিন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন বাংলাদেশের ঘটনা অমানবিক এবং নিন্দাজনক। ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করার পাশাপাশি ভারতের মাটিতে থাকা মৌলবাদীদের সতর্ক করেন। অন্যথায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা অন্যান্য হিন্দু দল সংগঠন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রান্তীয় ধর্মপ্রসার প্রমুখ গোপীব্রত গোস্বামী হাফলঙের রাজপথের প্রতিবাদ মিছিল থেকেই বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে শীঘ্রই বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বন্ধ না হলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ঢাকা মার্চ করবে। তাছাড়া ভারতেও মুসলিম মৌলবাদীরা রয়েছেন। যদি বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বন্ধ না হয় তাহলে এখানেও মৌলবাদী নির্যাতন হতে পারে। কারণ মৌলবাদীরা নাটক রচনা করবেন আর আত্মাহুতি দিতে হবে হিন্দুদের তা আর চলবে না। বরং নাটক বাদ দিয়ে হিন্দুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিশ্ব হিন্দু নেতা গোস্বামীবাবু বলেন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের পর মানবাধিকার কোথায়? বা যারা সেকুলারিজমের কথা বলেন তাঁরা আজ নির্বাক কেন? তিনি বলেন ডিমা হাসাও জেলায় একাংশ মুসলিম মৌলবাদীরা রয়েছেন তাই তাঁরা যদি বাংলাদেশ কাণ্ড নিয়ে নীরব থাকেন তাহলে আমরা ভাবতে বাধ্য হব যে তারা বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনকে সমর্থন করছেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীকে বাংলাদেশে দশ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করে হত্যা করাদের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

