তিন বছর পর আজ রবিবার নিজের রাজ্যে ফিরছেন লালুপ্রসাদ যাদব। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হয়ে রাঁটির জেলে আটক থাকা, সেখান থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে দিল্লিতে চিকিত্সার জন্য যাওয়ায় টানা তিন বছর বিহারের মাটিতে পা রাখেননি রাষ্ট্রীয় জনতা দল সুপ্রিমো তথা বিহারি রাজনীতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ। আজ দিল্লি থেকে স্ত্রী তথা বিহারের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং মেয়ে মিশা ভারতীকে সঙ্গে নিয়ে পাটনার বিমান ধরবেন তিনি। জেল জীবন এবং রোগভোগের কারণে লালু প্রসাদ শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল। তবে দিল্লির এইমসের চিকিত্সকেরা তাঁকে পাটনা ফেরার অনুমতি দিয়েছেন। আর এমন একটা সময় তিনি নিজের রাজ্যে ফিরছেন যখন বিহারের রাজনীতি এক সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে। রাজ্যে দুটি বিধানসভা আসনের উপ নির্বাচন হচ্ছে। তারই মধ্যে মহাজোট ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। দুই আসনেই কংগ্রেসকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে লালু প্রসাদের দলকে।
রাহুল গান্ধীর নির্দেশ সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া কানহাইয়া কুমার, হার্দিক প্যাটেল এবং জিগনেস মেভানি দুই কেন্দ্রের প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, লালুপ্রসাদের সংসারেও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে চরম অশান্তি চলছে। লালুপ্রসাদ বরাবরই ছোট ছেলে তেজস্বী যাদবকে বাড়তি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, বড় ছেলে তেজপ্রতাপের উপর মা রাবড়ি দেবীর স্নেহ বেশি। এ নিয়ে সাংসারিক অশান্তি এখন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে প্রভাব ফেলছে। এমনকী তেজপ্রতাপ প্রকাশ্যে এমন কথাও বলেছেন যে ছোটভাই তেজস্বী বাবা লালুপ্রসাদকে দিল্লিতে গৃহবন্দি করে রেখেছে। রাজ্য-রাজনীতিতে আর এক আলোচ্য হল নীতীশ কুমারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। রাজনীতিতে হার-জিতের অঙ্কে নীতীশের থেকে অনেক এগিয়ে লালুপ্রসাদ। আবার শরিক বিজেপির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে লালুপ্রসাদের রাজ্যে ফেরাকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে অনেক চমক অপেক্ষা করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আপাতত তিনি দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রচার করবেন বলে আরজেডির সাধারণ সম্পাদক ভোলা যাদব জানিয়েছেন।

