পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: অসমের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে পার্বত্য ডিমা হাসাও জেলায় বিধায়ক ছাড়া জেলা প্রশাসন কর্মকর্তারা কোভিড ভ্যাকসিনেশনের একশো শতাংশ লক্ষ্য নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। যাতে করে ১৮ বছর বা তার উর্ধ্বের এক ব্যক্তিও এই অভিযান থেকে বাদ না পড়ে। আর তাই ‘ হর ঘর দস্তক’ কার্যসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।
২৯ নভেম্বর সোমবার থেকে সপ্তাহব্যাপী এই কার্যসূচি শুরু হয়েছে। চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আজ ডিমা হাসাও জেলার নবাগতা জেলাশাসক নাজরিন আহমেদ পাহাড়ের দুটি প্রত্যন্ত নাগা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রাম পরিদর্শন করেন। কারণ জেলার কিছু এলাকায় গ্রামবাসীদের মধ্যে কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গ্রামবাসীরা ভ্যাকসিন নিতে এগিয়ে আসছেন না। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। তাই আজ জেলাশাসক আহমেদ স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ডা: দীপালি বর্মণ ছাড়া বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ওইসব গ্রামের ধর্মীয় যাজকদের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হোন এবং কোভিড নিয়ে সজাগতা সভা করেন।
এতে দুই গ্রামের মোট ২২ জন পুরুষ মহিলা কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিতে এগিয়ে আসেন।উল্লেখ্য কোভিড ভ্যাকসিনেশনের হর ঘর দস্তক কার্যসূচিতে পার্বত্য জেলায় মোট ২৪২ টি পোলিং বুথে ২০৪৫ জনকে মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে সাধারণ আধিকারিক ছাড়া রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডিমা হাসাও জেলায় ১৮ বছর তার উর্ধ্বের মোট এক লক্ষ ছেচল্লিশ হাজার পাঁচশো সত্তর জন পুরুষ মহিলাকে কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানের টার্গেট ছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ নেওয়ার সংখ্যা এক লক্ষ পঁচিশ হাজার তিনশো বিরাশি জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা তিয়াত্তর হাজার চারশো ছয় জন।
১৮ বা তার উর্ধ্বের জনসংখ্যার দিক থেকে দেখলে প্রথম ডোজের তালিকায় অবশিষ্ট রয়েছে ২১,১৮৮ এবং দ্বিতীয় ডোজ নিতে বাকি থাকা লোকের সংখ্যা ৭৩,১৬৪ জন। ডিমা হাসাও জেলা তথ্য ও জনসংযোগ সূত্রমতে পার্বত্য জেলার সাতটি গ্রাম ক্রমে দিজামদোলিয়া, পি ভাজাং, ভি লেইকে, সোলপিডং, লুংজাং, নিভাং, পি পাইসায় এক ব্যক্তিও কোভিড ভ্যাকসিন নেয়নি। অর্থাৎ ব্যক্তির সংখ্যা শূণ্য। জেলার ২৪২টি পোলিং স্টেশনের মধ্যে ২১ টি পোলিং স্টেশনে ভ্যাকসিনেশন একশো শতাংশ হয়েছে। তাই এবার ‘হর ঘর দস্তক’ কার্যসূচির মধ্য দিয়ে অবশিষ্ট গ্রামবস্তি এলাকায় ভ্যাকসিনেশনের বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
বুধবার মাইবাং মহকুমার হাতিখালী এবং বৃহস্পতিবার লাংটিং এলাকার বেশ কিছু গ্রামে পায়ে হেঁটে কোভিড ভ্যাকসিনেশন নিয়ে হাফলঙের বিধায়ক নন্দিতা গর্লোসা সরকারের হর ঘর দস্তক কার্যসূচির সফল রূপায়ণে অংশ নেন। বিধায়ক গর্লোসা গ্রামবাসীদের এই অভিযানে সরকারকে সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি গ্রামবাসীদের ভ্যাকসিনের উপকারীতা সম্পর্কে আরও সজাগ করেন এবং এই ভ্যাকসিনের যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

