বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: নাসার মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’ আনুষ্ঠানিকভাবে সূর্যকে ছুঁয়েছে। মহাকাশযানটি অনাবিষ্কৃত সৌর বায়ু্মণ্ডলে ঢুকে পড়েছে। বায়ুমণ্ডলটির নাম ‘করোনা’। আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের এক বৈঠকে আজ বুধবার বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানান। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল স্টাফ এর অনলাইনে এ খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
মূলত এপ্রিলে মহাকাশযান পার্কার সূর্যের কাছাকাছি আসার সময় করোনার মধ্য দিয়ে উড়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ডেটা ফেরত পেতে কয়েক মাস এবং তারপর নিশ্চিত হতে আরও কয়েক মাস লাগল। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রকল্প বিজ্ঞানী নুর রাওফি বলেন, ঘটনাটি চমকপ্রদ ও উত্তেজনাপূর্ণ।
২০১৮ সালে চালু হওয়া পার্কার সূর্যের কেন্দ্র থেকে ১৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে ছিল। তখন এটি প্রথম সৌর বায়ুমণ্ডল এবং বহির্গামী সৌর বায়ুর মধ্যকার সীমানা অতিক্রম করেছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশযানটি অন্তত তিনবার করোনার ভিতরে এবং বাইরে প্রবেশ করেছে। প্রতিটি প্রবেশ ছিল মসৃণ ও ঝুঁকিমুক্ত।
মিশিগান ইউনিভার্সিটির জাস্টিন ক্যাসপার সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম এবং সবচেয়ে নাটকীয় পাঁচটি ঘণ্টা আমরা কাটালাম। পার্কার এত দ্রুত গতিতে চলছিল যে, এটি এ সময়ের মধ্যে একটি বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে। প্রতি সেকেন্ডে পার্কারের গতি ছিল ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি।
বিজ্ঞানী নূর রাওফির মতে, এ ঘটনা বিজ্ঞানীদের সৌর বায়ুর উৎস সম্পর্কে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। কীভাবে এটি উত্তপ্ত হয় এবং মহাকাশে ত্বরান্বিত হয় তা শনাক্ত করা যাবে। পার্কারের মাধ্যমে সৌর বিস্ফোরণগুলো আরও ভালভাবে বুঝতে পারা যাবে, যা পৃথিবীর জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। ২০২৫ সাল নাগাদ পার্কার সূর্যের আরও কাছে আসতে থাকবে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

