শিরোনাম
মঙ্গল. মার্চ ৩, ২০২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভিয়েতনামের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

HI staff enter Kutupalong refugee camp Bangladesh. More then 647,000 Rohingya refugees are living in makeshift camps in the region. // L'équipe de HI rentre dans le camp de réfugiés de Kutupalong au Bangladesh. Plus de 647 000 réfugiés Rohingya vivent dans des camps de fortune dans la région.

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভিয়েতনামের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে দেশটির সাথে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার বিকেলে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুই থান সনের সাথে টেলিফোনে আলোচনাকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ আহ্বান জানান।

আলাপকালে মোমেন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ফিরে যেতে সহায়তা করার মাধ্যমে এই রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে ভিয়েতনাম ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এই বাস্তুচ্যূত মিয়ানমারের নাগরিকদের দ্বারা ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ, চরমপন্থা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক পাচার ইত্যাদির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যই মারাত্মক হুমকি। ড.মোনেম বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা ভিয়েতনামী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বুই থান বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় ড. মোমেন তাকে ধন্যবাদ জানান।

দু’দেশের মধ্যকার চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপারে সন্তোষ জানিয়ে মোমেন আশা করেন যে, আগামী বছর যথাযোগ্যভাবে দু’দেশ তাদের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রশংসা করে দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ঘাটতি হ্রাসে মোমেন বাংলাদেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধির জন্য হ্যানয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও উদার বিনিয়োগ প্যাকেজে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ভিয়েতনামের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে অধিকতর কারিগরী অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরমর্শ দেন।

দুদেশের জনগনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে ড.মোমেন বলেন, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী পর্যটক এখন ভিয়েতনাম ভ্রমণে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ভিয়েতনামিদের উৎসাহিত করে বলেন, বাংলাদেশে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন ও বৌদ্ধ ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহসহ আকর্ষণীয় সব চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এ সময় ড. মোমেন আসিয়ানের সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশী প্রার্থীর পক্ষে ভিয়েতনামের সমর্থন চান।

এদিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানের জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংকটের দ্রুত সমাধানের জন্য আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে থেকেই তারা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবেন বলে ড. মোমেনকে আশ্বস্ত করেন। এ সময় তিনি দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে যৌথ বাণিজ্য কমিশন ও অন্যান্য বাণিজ্য মেকানিজম সক্রিয় করার পরামর্শ দেন।

পারস্পারিক সহযোগিতা ও যোগাযোগে অনেক সুযোগের কথা উল্লেখ করে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও জোরদার কথার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় দুই নেতা বিভিন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পারস্পারিক সমর্থন বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও বহুমুখী ফোরামে নিবিড় সহযোগিতা করার ব্যাপারে সম্মত হন। সূত্র : বাসস

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *