পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: অসমের পার্বত্য ডিমা হাসাও জেলায়ও রবিবার আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্ম জয়ন্তী পরাক্রম দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।
জেলা সদর হাফলং ছাড়া জাটিঙ্গা, হারাঙ্গাজাও এবং লাংটিঙে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম জয়ন্তী পালিত হয়। হাফলঙে নেতাজি জন্মজয়ন্তী উদযাপন কমিটির দ্বারা আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধ্যক্ষা রাণু লাংথাসা।এছাড়া সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদ সদস্য লিটন চক্রবর্তী, বাঙালি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গোপা চৌধুরী, সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
এদিন দিনের ১২ টা বেজে ১২ মিনিটে হাফলং কালচারাল ইনস্টিটিউট হল প্রাঙ্গণে আজাদ হিন্দের পতাকা উত্তোলন করেন মুখ্য অতিথি পরিষদের অধ্যক্ষা রাণু লাংথাসা। বক্তব্য রাখেন সম্মানীয় অতিথি পরিষদ সদস্য লিটন চক্রবর্তী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সুভাষচন্দ্র বসুর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ সুভাষ থেকে কিভাবে নেতাজি হয়ে ওঠেন তা বক্তব্যে তুলে ধরেন।এদিকে জাটিঙ্গাতে থাকা পার্বত্য জেলার একমাত্র নেতাজি মূর্তির সম্মুখে আজাদ হিন্দের পতাকা উত্তোলন করেন ডিমা হাসাও সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি রজতকান্তি নাথ।
পরবর্তীতে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন তথা মাল্যদান করেন জাটিঙ্গা নেপালি গ্রামের গ্রাম প্রধান বিজয় ঘার্থি, সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক পঙ্কজকুমার দেব, আশীষ দত্ত,পৃথ্বীশ ভট্টাচার্য, উত্তম দে, শিক্ষক পল্টন দে প্রমুখ। এছাড়া জাটিঙ্গার অনুষ্ঠানে স্থানীয় ছোট হাফলং এম ই স্কুল তথা জাটিঙ্গা এম ই স্কুলের শিক্ষক তথা ছাত্র ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন পঙ্কজকুমার দেব এবং রজতকান্তি নাথ।
রজতবাবু বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপস্থিত জাটিঙ্গাবাসীকে নেতাজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান জানান। অনুরূপ ছোটদেরকে নেতাজির আদর্শকে অনুকরণ করার পরামর্শ দেন। কারণ নেতাজি সব জাতি জনগোষ্ঠীকে নিয়েই স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখতেন। এদিন ছাত্র ছাত্রীরা সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করা ছাড়া নেতাজির জীবনী পাঠ করে শোনান। এর পাশাপাশি কোভিড প্রটোকল মেনে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রায় কুড়ি পঁচিশ জন ছাত্র ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।উল্লেখ্য, জাটিঙ্গাতে নেতাজি জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বেশ ভালো জনসমাগম হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী , শিক্ষক, অভিভাবকরাও অংশ গ্রহণ করেন। হাফলং, জাটিঙ্গা ছাড়া সীমান্ত শহর হারাঙ্গাজাও এবং লাংটিঙে নেতাজি সঙ্ঘের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালিত হয়।

