শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ৮, ২০২৬

আইনি জটিলতা এড়াতে কাতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ২০ হাজার বাংলাদেশীর আবেদন

কাতারে অবৈধদের বৈধ হওয়া এবং বৈধভাবে দেশে ফিরতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন। তবে প্রবাসীদের প্রবেশ, প্রস্থান ও আবাসন নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনকারী বাংলাদেশীসহ বিদেশীদের সংশোধনের জন্য আবারো ৩ মাস সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। একই সাথে জরিমানার টাকাও কমানো হয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের প্রবেশ, প্রস্থান ও আবাসন নিয়ন্ত্রণ আইন ২১/২০১৫ লঙ্ঘনকারীদের স্ট্যাটাস বৈধ করার জন্য গ্রেস পিরিয়ড আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে কাতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ওই আইন লঙ্ঘনের জরিমানা ৫০% হ্রাস করা হয়েছে জানিয়ে দূতাবাস থেকে আরো বলা হয়, যারা আবাসন আইন ও ওয়ার্ক ভিসার আইন লঙ্ঘন করেছেন তারা (সব প্রবাসী ও নিয়োগকর্তা) আইন লঙ্ঘনের নিষ্পত্তির জন্য কাতারের সার্চ অ্যান্ড ফলোআপ ডিপার্টমেন্টে আবেদন করতে পারবেন। যারা নিয়োগকারী পরিবর্তন করতে চান তাদেরকে উম সালাল, আল রাইয়ান, মেসাইমির, আল ওয়াকরা বা উম সেনাইম সার্ভিস সেন্টারের যেকোনো একটিতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপর দিকে যারা বর্তমান নিয়োগকারীর সাথে সমঝোতা ও তার অধীনে রেসিডেন্সি পারমিট/ আইডি কার্ড ইস্যু বা নবায়ন করাতে চান তারা (আইন লঙ্ঘনকারী) আল সামাল, আল খোর, আল দায়েন, উম সালাল, পার্ল, উনাইজা, সুক ওয়াকিফ, আল রাইয়ান, উম সেনাইম, আল শাহানিয়া, মেসাইমির, আল ওয়াকরা বা দুখান সার্ভিস সেন্টারের যেকোনো একটিতে আবেদন জমা দিতে পারবেন ।

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইনগত অবস্থান বৈধ করা এবং পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়োগকারী এবং প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

কাতারে বসবাসকারী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলম খান নয়া দিগন্তকে দেশটির সরকারের নতুন নির্দেশনা প্রসঙ্গে বলেন, কাতারে যারা এখনো অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং যারা পরবর্তীতে বৈধভাবেই দেশে ফিরে যেতে চাইছেন তাদের জন্য কাতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আবারো ৩ মাসের সময় বাড়িয়ে প্রবাসীদের সংশোধন হওয়ার একটি সুযোগ দিয়েছে। এর আগে অবৈধদের বৈধ হওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেই সময় শেষ হওয়ার পর সেটি বৃদ্ধি করে এখন মার্চ ২০২২ পর্যন্ত করেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার জানা মতে কাতার সরকারের নতুন ঘোষিত সুযোগ গ্রহণ করেছেন প্রায় ২০ হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী। আরো অনেকে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এরমধ্যে যেসব বাংলাদেশী সুুযোগ গ্রহণ করে আবেদন জমা দিয়েছে তাদের অনেকেরই এখনো সার্চ অ্যান্ড ফলোআপ অফিস থেকে ম্যাসেজ আসেনি। তিনি বলেন, কাতারের দোহায় থাকা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাইপার মার্কেটের একজন ফিলিপিনোসহ ৩ জন কর্মচারী অনেক আগেই আবেদন করেছিলেন। তারা আমাকে জানিয়েছেন তাদের আবেদনের জবাব বা ম্যাসেজ এখনো আসেনি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মূলত যে প্রবাসী এদেশে এসে ওভার স্টে করেছে (অবৈধ), মালিক খুঁজে পাচ্ছে না তাদের জন্য কাতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আগেই ১২ হাজার কাতারি রিয়াল জরিমানা দিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। সাড়া না পাওয়ায় মনে হয়, সেটিই এবার সময় বৃদ্ধি করে জরিমানার টাকা অর্ধেক করে বৈধ হওয়ার আরেকবার সুযোগ দিয়েছে।

জরিমানার টাকা সার্চ অ্যান্ড ফলোআপ অফিসে জমা দিয়ে যে কেউ বৈধ হওয়ার পাশাপাশি নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন। যদি জরিমানার টাকা কেউ না দিতে চায় তাহলে অসুবিধা নেই। সে ক্ষেত্রে কাতার সরকার তার বিমান টিকিটসহ অন্য সব কিছুর ব্যয় পরিশোধ করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। তবে সেই শ্রমিক যে মালিকের অধীনে থেকে কাতারে প্রবেশ করেছিলেন সেই মালিকের কাছ থেকে (আইডি নাম্বার বের করে) ওই শ্রমিকের পুরো জরিমানার টাকা আদায় করে নেবে কাতার সরকার। আর এই প্রক্রিয়ায় কেউ কাতার ত্যাগ করলে পরবর্তীতে সেই শ্রমিক আর এ দেশে ঢুকতে পারবে না বলেও জানান ব্যবসায়ী শাহ আলম খান।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *