শিরোনাম
শুক্র. ফেব্রু ২০, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন ‘স্থগিত’ করলেন রাজ্যপাল

পশ্চিমবঙ্গ নিউজ ডেস্ক: বোমা ফাটালেন রীতিমতো পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বাংলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে বিধানসভা ‘সমাপ্ত’ করেন রাজ্যপাল ধনকড়। সাংবিধানিক পদাধিকার প্রয়োগ করে বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করলেন তিনি, যা আজ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর। উল্লেখ করা জরুরি যে, বাংলার ইতিহাসে কোনও রাজ্যপাল এতবড় সিদ্ধান্ত নেননি।

টুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘সংবিধানের ১৭৪ এর ২/এ ধারা প্রয়োগ করে আমি জগদীপ ধনকড়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল, বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করছি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকেই যা কার্যকর হচ্ছে।’ WB Guv: In exercise of the powers conferred upon me by sub-clause (a) of clause (2) of article 174 of the Constitution, I, Jagdeep Dhankhar, Governor of the State of West Bengal, hereby prorogue the West Bengal Legislative Assembly with effect from 12 February, 2022.

অভূতপূর্ব এই ঘটনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্দেশিকা জারি করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা অধিবেশন স্থগিত রাখার ঘটনা অতীতে আর ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য রাজ্যপালের সংঘর্ষ লেগেই থাকে, এখন যেন নয়া মাত্রা পেল।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জগদীপ ধনকড়। আর শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মমতা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপালের বিরোধ এতটাই বেড়েছে যে, রাজ্যপালকে টুইটে আনফলো করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এরপর রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সংবিধান বহির্ভূত কাজের অভিযোগ তুলে অ-আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল। রাজ্যপালকে সরানোর দাবিতে সংসদে স্বতন্ত্র প্রস্তাব আনে তৃণমূল।
রাজ্যপালের এহেন সিদ্ধান্ত বিষয়ের বিরোধিতা করেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বলেন, ‘রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত অভূতপূর্ব। কোনও রাজ্যপাল আগে এই ধরণের কাজ করেননি। স্পষ্ট যে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিধানসভা না বসলে রাজ্যের সব কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। উনি তো চিঠি দিতে পারতেন , কিন্তু তা করলেন না। আসলে রাজ্যপাল চাইছেন রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হোক।’

তবে রাজ্যপালের স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ‘রাজ্যপালর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তাই তিনি নিয়েছেন। রাজ্য সরকারের অপশাসন ও ক্রমাগত বিদ্রোহী অবস্থানের কারণে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *