শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, জেনে নিন হতে পারে কোন রোগের লক্ষণ?

দিন দিন বেড়েই চলেছে ডায়াবেটিসের প্রকোপ। অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলে মধ্য বয়সে পৌঁছতেই বহু মানুষ এখন আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে।

শরীরে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধলে প্রথম অবস্থাতেই তা টের পাওয়া যায় না। যেকোনও অসুখের ক্ষেত্রে যত আগে রোগের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় ততই ভাল। এতে আগাম সতর্কতা নেওয়া সম্ভব হয়।

ডাযাবেটিসের ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, পানি পানের পরেও তৃষ্ণায় জিহ্বা শুকিয়ে আসা, চোখে ঝাপসা দেখা,ওজন হ্রাস, মাত্রাতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতার মতো কিছু উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো ছাড়াও চিকিৎসকরা বলছেন, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাসও ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে মুখের চারপাশের অংশে তার প্রভাব পড়ে। ডায়াবেটিসের প্রভাবে কিডনি, হৃদযন্ত্র, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক জীবনযাপন, খাওয়া-দাওয়ায় বিধিনিষেধ, নিয়ম করে শরীরচর্চা করার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সবার প্রথমে প্রস্রাব এবং দাঁতের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

নিঃশ্বাস থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার সমস্যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয় ‘হ্যালিটোসিস’। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয় এবং তার সঙ্গে এই সমস্যাগুলো দেখা জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই নিঃশ্বাস দুর্গন্ধজনিত সমস্যা, দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা, প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যাগুলোকে ‘ ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’-ও বলা হয়ে থাকে। রক্তে ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের সৃষ্টি হয়। ইনসুলিনের ঘাটতির কারণে শরীর শর্করা বিপাকের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করতে না পারে না। ফলে শরীরে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিডের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করা শুরু করে। ফলশ্রুতি হিসেবে শরীরে ‘কিটোন ব়ডি’ তৈরি হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা ২৫০ থেকে ৩০০-এর বেশি হলে হলে এই ধরনের সমস্যাগুলে দেখা দেয়।

শরীরে কিটোন আছে কি না তা জানতে রোগীর প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে হয়। এই ‘হ্যালিটোসিস’ এবং ‘ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *