শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

করোনা মুক্ত হয়ে সবাইকে যে পরামর্শ দিলেন ডা: আসাদুল্লাহিল গালিব

করোনা ভাইরাস মহামারির এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ডাক্তাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালে আসা করোনা রোগীদের সংস্পর্শে তারা নিজেরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আসাদুল্লাহিল গালিব করোনা আক্রান্ত হয়ে কিভাবে সেরে উঠেছেন, কিভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন সেই অভিজ্ঞতাই বর্ণনা করেছেন এবং সবাইকে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন।

ডাক্তার আসাদুল্লাহিল গালিব তার স্ত্রী ডাক্তার মাকসুদা খানম, কন্যা তারান্নুম গালিব ও তার খালা কমলা বেগম করোনায় আক্রান্ত হন। এর মাঝে ডাক্তার গালিবের অবস্থা ছিল সবচেয়ে খারাপ। তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে ভেন্টিলেটরের অপ্রতুলতা এবং কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ার ফলে তিনি ভেন্টিলেটর ছাড়া অন্যান্য সাপোর্ট নিয়ে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন।

ডা: গালিব বলেন, তৃতীয় দিন আমার মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। সেচুরেশন কমে যাওয়ায় মাঝে মাঝে অক্সিজেন নিচ্ছিলাম। নিজের জিহ্বাটাকে মনে হচ্ছিলো আমার না। একটু স্বস্তি পাবার জন্য আমি হাঁসফাঁস করছিলাম। এরই মাঝে একবার আধা মগ পানি গরম করে মগের মুখে হাত দিয়ে নাক মুখ দিয়ে যতটুকু সম্ভব গরম পানির ভাপ নিতে থাকি। পানি একটু ঠান্ডা হয়ে আসলে চায়ের মত ধীরে ধীরে সময় নিয়ে সেই কুসুম গরম পানি আমি পান করতে থাকি। এক সময় লক্ষ্য করলাম আমার শ্বাসকষ্ট কমে যাচ্ছে এবং জিহ্বায় স্বাদও ফিরে এসেছে। এভাবে ঘন্টা খানেক শ্বাসকষ্ট কম থাকছে এবং জিহ্বার স্বাদও বজায় থাকছে। আমি খেতেও পারছি। আমার এই উন্নতি লক্ষ্য করার পর থেকে আমি এবং বাসার অন্য সবাই এক ঘন্টা পরপর গরম পানির ভাপ নিতে থাকি। একইভাবে কুসুম গরম পানিও পান করতে থাকি।


একজন চিকিৎসক হিসাবে আমার এবং আমার স্ত্রী ডাঃ মাকসুদার অবজারভেশন হচ্ছে যেহেতু করোনাভাইরাস নাক, মুখ ও ফুসফুসসহ শ্বাসতন্ত্রে (রেসপ্রিয়েটরী সিস্টেম) থাকে সেজন্য রোগী মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভোগে। নি:শ্বাস নিতে পারেনা, নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গরম পানির ভাপ নেয়া ও খাওয়ার ফলে এইসব জায়গায় ভাইরাসের মাত্রা বা ভাইরাল লোড কমে যায়। রোগী স্বস্তি পায়। হয়তো সংক্রমণ বা অসুস্থ্যতা থেকেও মুক্তি পায়।

করোনাকালের লকডাউনসহ নানা কারণেই আমরা সবাই প্রায় বাসায় বসে আছি। যার কাছে যা শুনছি তাই করছি। নানা রকম টোটকা নিচ্ছি। আমরা একটু পরপর হাত ধুচ্ছি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি। ঠিক একইভাবে আমরা দেশের সকল মানুষ যদি এক নাগাড়ে ১৪ দিন এক ঘন্টা পরপর গরম পানির ভাপ নেই ও গরম পানি খাই তাহলে এই করোনা মহামারি থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে একটা ভিন্ন মাত্রা যোগ হতে পারে।

নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *