পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: বর্ষণে স্তব্ধ পাহাড়। বর্ষণের জেরে বন্ধ হয়ে পড়েছে জাটিঙ্গা – শিলচর মহাসড়ক। শুক্রবার রাত থেকে চলা বর্ষণের জেরে শনিবার সকালে প্রায় জেলার সবকটি সড়কপথে ধস নামে। এমনকি স্থানে স্থানে বাঁশের ঝাড়, গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যহত হয়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাটিঙ্গা-শিলচর পথ বাদে সবকটি পথ সচল হয় ওঠে। কারণ জাটিঙ্গা-শিলচর মহাসড়কের একাধিক স্থানে ধস নামার পাশাপাশি জলে কাঁদায় পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়।
এদিকে অসমের হাফলং অসামরিক চিকিৎসালয়ের কাছে বিশাল আকৃতির দেওয়াল ধসে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকেই পাহাড়ে মুষল ধারে বৃষ্টি নামে। তবে শুক্রবার রাতের বৃষ্টি শনিবার সকাল অবধি গড়ায়। যার পরিণতিতে পথ ঘাটের অনেক ক্ষতি সাধন করে। বিশেষ করে হাফলং-লংকা ভায়া দিয়ুংব্রা, হাফলং- উমরাংশু, হাফলং-গুয়াহাটি ভায়া মাইবাং এবং জাটিঙ্গা- শিলচর সড়কপথের একাধিক এলাকায় বিশাল আকৃতির গাছ তথা ধস পড়ে পথ যোগাযোগ ব্যহত হয়।
এতে বিভাগীয় তরফে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বিকেলের মধ্যেই পথ সচল হয় যদিও নাহাইর অধীনে থাকা জাটিঙ্গা-শিলচর পথ বন্ধ রয়েছে বলে সরকারি সূত্র স্পষ্ট করে।প্রকৃতার্থে জাটিঙ্গা শিলচর মহাসড়কের জাটিঙ্গা হারাঙ্গাজাও অংশে নাহাইর রিপেয়ারিং কাজ অব্যাহত রয়েছে। কাজ করছে রত্না ইনফ্রা।
অন্যদিকে হারাঙ্গাজাও-বালাচড়া অংশে এনএইচআইডিসিএলের অধীনে কাজ হচ্ছে। কাজ করছে সুশি ইনফ্রা। ওই এলাকায় এতদিন ধুলোর ঝড় উঠেছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করে বৃষ্টি নামে। ফলে এদিন রাত থেকে ওই পথ বন্ধ হয়ে পড়ে। জানা গেছে হারাঙ্গাজাও- বালাচড়া অংশের মাড়োয়াচড়াতে ধস নামায় এই পথ বন্ধ। তবে বৃষ্টি না ওঠলে সহজে এই পথ সচল হবে না বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারন জলে কাঁদায় পথ একাকার হয়ে গেছে। এছাড়াও জাটিঙ্গা – হারাঙ্গাজাওয়ের মাঝখানেও পথে সমস্যা রয়েছে।
এদিকে অবিরাম বর্ষণের জেরে মাহুর নদীর জল বেড়ে যায়। এতে মাহুর থানার অন্তর্গত বড় হেনাম গ্রামের জিংকাওলেম জেমি নামের ৪৯ বয়সের জনৈক ব্যক্তি নদীর জলে ভেসে যায়। ঘটনা বৃহস্পতিবারের। এদিকে হাফলং থেকে দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের কর্মীরা অকুস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান চালানোর পাশাপাশি আজকে হোজাই থেকে এসডিআরএফের দল উদ্ধার অভিযানের জন্য আসলে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সবিশেষ খবর মতে জেমির কোনো সন্ধান মিলেনি।

