আসাম নিউজ ডেস্ক: বিগত কয়েকদিন থেকে প্রাগ নিউজের সিনে অ্যাওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তথা নেতামন্ত্রীরা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। অনেকে এই অনুষ্ঠানকে অসমের বরাক ব্রহ্মপুত্র মিলনকে ত্বরান্বিত করবে এবং এই উৎসবকে মৈত্রী উৎসব বলে অভিহিত করেন। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিডিএফ ইয়ুথ ফ্রন্ট।
ফ্রন্টের মুখ্য আহবায়ক কল্পার্ণব গুপ্ত বলেন যে অসমের বরাক উপত্যকা নানা সমস্যায় জর্জরিত। বেকার সমস্যা এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রেজিস্ট্রিকৃত বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষের অধিক। পূর্বে সরকারের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পোস্ট বরাকের প্রার্থীদের জন্য একশো শতাংশ সংরক্ষিত করা হবে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন তো দূরের কথা বরং মিথ্যা আইন ও সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে সমস্তটাই আটকে রাখা হয়েছে। বেকারত্বের জ্বালায় যুব প্রজন্ম চরম হতাশাগ্রস্ত, অনেকে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ঘরের নিকটে অফিস আদালতে পোস্ট খালি পড়ে আছে কিন্তু বরাকের কর্মপ্রার্থীদের বঞ্চিত করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে পোস্ট পূরণ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এই সব মৈত্রী উৎসবের আয়োজন এক হাস্যকর ও অলীক বিষয়। ফ্রন্টের আরেক আহ্বায়ক ইকবাল নাসিম চৌধুরী বলেন যে উগ্র অসমীয়া জাতীয়তাবাদ মদতপুষ্ট ভাষিক আগ্রাসন সমানভাবে অব্যাহত। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সরকারি ভাষা আইন উপেক্ষা করে হোর্ডিং, পোস্টারে বাংলা ভাষাকে ব্রাত্য রাখা হচ্ছে। বিদেশি নোটিশ আসারও কোনো বিরাম নেই। নাগরিকত্বের নামে লাঞ্ছনা সমানভাবে অব্যাহত। বাইপাস, ফ্লাইওভার, মহাসড়কের মতো উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের কোনো লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।
অসমের বরাকের মানুষ যখন ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন তখন এই সব কৃত্রিম উদ্যোগ দ্বারা কোনো ধরনের মৈত্রী কিংবা সমন্বয় সম্ভব নয়। কল্পার্ণব আরও বলেন যে প্রাগের চিফ এডিটর প্রশান্ত রাজগুরু কিছু দিন আগে বরাক উপত্যকাকে শত্রু রাজ্য বলে অভিহিত করেছিলেন। তার এই বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য তাঁকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। এই উপত্যকারই এক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায়ের জন্য এই সব বরাক এবং বাঙালি বিদ্বেষী লোকের সাথে দহরম মহরম করছেন। বরাক উপত্যকার সাধারণ জনসাধারণকে এই চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি। এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন ইয়ুথ ফ্রন্টের মিডিয়া সেলের আহবায়ক দেবায়ন দেব।

