শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

রূপকথা নয়, বাংলাদেশেরই একটি আদর্শ গ্রাম হুলহুলিয়া

রূপকথা নয়, নাটোরের হুলহুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা শতভাগ শিক্ষিত। নেই মাদক, অন্যায় কিংবা পারিবারিক নির্যাতন। বাল্যবিয়ে কিংবা যৌতুকের চলও নেই এখানে। বহু বছর ধরে গ্রামটিতে প্রবেশ করেনি পুলিশ। গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অনুকরণীয় বৈশিষ্ট্যে হুলহুলিয়া হয়ে উঠেছে আদর্শ গ্রাম।

নাটোর শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে হুলহুলিয়া। সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের এই গ্রামটি যেন রূপকথার প্রতিচ্ছবি। গ্রামের অধিবাসীদের কমপক্ষে এসএসসি পাশ করা আবশ্যক। আর এভাবেই শতভাগ শিক্ষার আওতায় এসেছে গ্রামটি। মুছে গেছে বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতন ও মাদকের মতো অভিশাপ।

গ্রামটি স্বতন্ত্র নীতিমালাতেও। ১৯৪০ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা হয় হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের। প্রণয়ন করা হয় গ্রাম পরিচালনার গঠনতন্ত্র। নিয়ম অনুযায়ী গ্রামের ১২টি পাড়া থেকে দুই বছর মেয়াদী পরিষদে ২১ জন সদস্য ও ৫ জন উপদেষ্টা মনোনীত হন। গ্রামবাসীই নির্বাচিত করেন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে। নির্বাচিত এই প্রতিনিধিরাই গ্রামের সব সমস্যার সমাধান করেন। এখানে সমাধান না মিললে দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয়ও নেয়া যাবে। তবে এখনও পর্যন্ত এর প্রয়োজন হয়নি বলে জানান বাসিন্দারা।

হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল তৌফিক পরশ জানান, শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য আশেপাশের গ্রামগুলোর কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে হুলহুলিয়া। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, গ্রামটির প্রশংসা সবার মুখে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও প্রশংসা করলেন গ্রামটির।

গ্রামের ১২টি পাড়ায় জনসংখ্যা ৬ হাজার। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার জন্ম এ গ্রামেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *