উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও রেজাল্ট প্রকাশের ভার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ওপর ছাড়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে সেই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তাবিত ৩, ৬ আর ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা বাতিল। শুক্রবার এই ঘোষণা করলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলপ্রকাশের ভার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ওপর ছাড়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে সেই পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এদিন জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “এই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলে, পরে সুবিধামতো সেই পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে। এই বিকল্পও আমরা খুশি রাখছি। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করার চেষ্টা করা হবে। আমাদের কাছে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা প্রাধান্য।”
এদিকে, বাকি পরীক্ষাগুলো বাতিলের পথেই হাঁটছে সিবিএসই। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টকে এই ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ামক এই পর্ষদ। পয়লা জুলাই থেকে সূচি মেনে এই পরীক্ষা আয়োজনের কথা হয়েছিল। কিন্তু সংক্রমণের বর্ধিত পরিস্থিতিতে উদ্বেগে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু আর দিল্লি কোনও পরীক্ষা আয়োজনের অবস্থায় নেই। এমনটাও মন্ত্রককে স্পষ্ট করেছে রাজ্যগুলো। তাই সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাকি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিবিএসই’র তরফে এমন সিদ্ধান্ত আদালতকে জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা। জানা গিয়েছে, পয়লা জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করছে সিবিএসই। পরে সুবিধামতো আয়োজন করা হবে সেই পরীক্ষা। এমন বার্তা শীর্ষ আদালতকে দেওয়া হয়েছে। এদিন, সুপ্রিম কোর্টের তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরীক্ষার্থীদের কাছে কোনও বিকল্প কি রাখছে বোর্ড? না অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে রেজাল্ট?
জবাবে সিবিএসই বলেছে, “একমাত্র দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা পরে বাকি পরীক্ষা দিতে পারবে। এমন বিকল্প থাকছে। দশম শ্রেণীর জন্য একমাত্র উত্তর-পূর্ব দিল্লির পড়ুয়াদের পরীক্ষা বাকি রয়েছে। দিল্লি হিংসার কারণে সে সময় স্থগিত রাখা হয়েছিল পরীক্ষা গ্রহণ। তবে, সেই পরীক্ষা বাতিল হওয়ার জেরে শেষ তিনটি পরীক্ষার মূল্যায়নের ওপর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হবে।”
জুলাই মাসে পরীক্ষা স্থগিতের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দরবার করেছিলেন অভিভাবকদের এক সংগঠন। সেই মামলার শুনানিতে এদিন অবস্থান স্পষ্ট করে সিবিএসই।

