শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ১৫, ২০২৬

আসামের হাফলঙে ড্রাগসের ঘাটি উৎখাত, ৫ জন গ্রেফতার

পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: অসমের শৈল শহর হাফলঙে ফের পুলিশের ড্রাগস বিরোধী অভিযান। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নর্থ বাগেটার, জাটিঙ্গা সহ একাধিক এলাকা থেকে ড্রাগস পাচারের সঙ্গে জড়িত তথা ড্রাগস আসক্ত পাঁচ যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে হাফলং পুলিশ। ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে থাকা যুব প্রজন্মের একাংশরা সকাল থেকে সন্ধ্যা এই ড্রাগসের নেশায় বুদ হয়ে থাকে।

পুলিশের জালে পড়া পাঁচ যুবকে ক্রমে রাহুল সুচিয়াং (২০), বাড়ি হাফলং থানার অন্তর্গত নর্থ বাগেটার। মার্সিল সুচিয়াং দাউলাগুপু (২১), বাড়ি জাটিঙ্গার খাসিয়া গ্রাম। বিশাল দে (২২), বাড়ি হাফলং পুলিশ কলোনী। কালিয়ানমুয়ান লিয়েন্থাং (২৪), বাড়ি নর্থ বাগেটার, হাফলং এবং থাইরেংদাও নাইডিং(১৯), দিবারাই গ্রাম, হাফলং। তাদের কাছ থেকে ড্রাগসের ১৮১টি (হেরোইন) ভর্তি প্লাস্টিকের শিশি এবং ২৫০টি খালি শিশি ছাড়াও নেশাযুক্ত ক্যাপসুল উদ্ধার হয়।

যদিও জব্দ করা ড্রাগসের পরিমাণ তেমন নয়, কিন্তু এদের বহির্রাজ্যের ড্রাগস পাচার চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। পাঁচ যুবককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আদালতে হাজির করানো হয়। প্রকৃতার্থে অসমের ডিমা হাসাও জেলার জেলা সদর হাফলং ছাড়া এর আশপাশ এলাকায় ড্রাগসের বেশ বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। যা যুবসমাজের কাছে অনেকটা সহজলভ্য।

গত কয়েকমাস আগে অনুরূপ ড্রাগস বিরোধী অভিযানে পুলিশের সফলতার পর গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জেলা সদরের একাধিক এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায় এবং দুই যুবকের কাছ থেকে ১৮১টি ড্রাগস ভর্তি শিশি জব্দ করা ছাড়া বাকি তিনজনকে ড্রাগস নেওয়া অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার জয়ন্ত সিং জানান যে অসমের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে পার্বত্য ডিমা হাসাও জেলায় ড্রাগস বিরোধী অভিযান নতুন নয়।

বৃহস্পতিবার সারা রাত ধরে চলা অভিযানে পুলিশ পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করে। এই পাঁচজনের দুই জন প্ৰত্যক্ষ ভাবে ড্রাগস পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে ক্রমে ৬০ এবং ১২১ মোট ১৮১টি হেরোইন ভর্তি শিশি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ২৫০টি খালি শিশি রয়েছে। জব্দ করা হেরোইনের বাজার মূল্য অন্তত পনেরো হাজার টাকা হবে।

তবে বলাবাহুল্য এই পনেরো হাজার টাকার ড্রাগসই যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। পুলিশ সুপার জয়ন্ত সিং আরও বলেন যে এই পাচার কার্যের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা ছাড়া এদের গ্রেফতার করে উচিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারলেই সমাজের মঙ্গল হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের গতিবিধির ওপর কঠোর দৃষ্টি রাখাও জরুরি। তাছাড়া সমাজ সচেতকরাও ড্রাগসের বিরুদ্ধে শক্তস্থিতি নিতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *