শিরোনাম
মঙ্গল. ফেব্রু ১০, ২০২৬

তামিম-শান্তদের ভুল নিয়ে দ্রুত কাজ করার তাগিদ সিডন্সের

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ভিয়ান মুল্ডার বল করতে এসে যে কৌশল ফাঁদলেন, সেই কৌশলে একে একে ধরা খেলেন বাংলাদেশের তিনজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ধসের শুরুও সেখানেই। বড় বিপদ নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করার পর ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স জানালেন, তামিম ইকবাল-নাজমুল হোসেন শান্তদের ভুল নিয়ে কাজ করতে হবে তার।

দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৫৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে ৮২ থেকে ১২২ রানের মধ্যে পড়েছে ৪ উইকেট। যার তিনটিই একই ভুলে।

প্রথম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয়কে হারানোর পর তামিম ও শান্ত মিলে পেয়েছিলেন ৭৯ রানের জুটি। সাবলীল খেলে তামিম এগুচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। বল হাতে নিয়ে তাকে ৪৭ রানে থামান মুল্ডার। অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট বল করতে এসে অ্যাঙ্গেল তৈরি করে বল ভেতরে ঢোকাচ্ছিলেন তিনি।

সেরকম এক বল আড়াআড়ি লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হয়ে পায়ে লাগান তামিম। পরিষ্কার এলবিডব্লিউর আউটে ফিরতে হয় তাকে। খানিক পর আরেকটি ভেতরে ঢোকা বল এলবিডব্লিউতে কেড়ে নেয় শান্তকেও।

অধিনায়ক মুমিনুল হক ক্রিজে এসে ১ রানে জীবন পেয়েছিলেন। কিন্তু আর ৫ রান যোগ করে তিনিও মুল্ডারের শিকার। বাঁহাতি হওয়ায় তাকে ফেরাতেও একই কৌশল নিয়ে সফল হন মুল্ডার।

বাকি দুজনের মতো অ্যাটাকিং নয় ডিফেন্সিভ শট খেলতে গিয়ে ব্যাটে নিতে পারেননি মুমিনুল। ৬ রানে এলবিডব্লিউতে থামে তার দৌড়।

দিনের খেলা শেষ এই আউটগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সিডন্স। তিনি জানান কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক ও কিছুটা টেকনিক্যাল সমস্যায় ভুগছেন তারা। যা দ্রুতই ঠিক করার তাগিদ তার, ‘আমি এরমধ্যে দুইজন বাঁহাতির (আউট হওয়া) সঙ্গে তাদের আউট নিয়ে কথা বলেছি। দুজনেই লেগ সাইডে মারার চেষ্টা করছিল। তারা জানে আমি তাদের বলেছি এসব ক্ষেত্রে ফ্রন্ট প্যাড ক্লিয়ার রাখতে। বল যেদিক থেকে আসবে সেদিকেই মারতে (অফ সাইডে)। আমাদের এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এটা মনস্তাত্ত্বিক ও টেকনিক্যাল ভুল যেটা সহজেই শুধরে নেওয়া যাবে। আমাদের এটা নিয়ে দ্রুতই করতে হবে। এটা এমন এক ধরণের আউট যা হওয়া উচিত নয়।’

তামিম যেভাবে আউট হলেন এরকম আউট তিনি সাম্প্রতিক সময়ে অনেকবারই হয়েছে। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সব ম্যাচেই এভাবে থামে তার ইনিংস। সিডন্স জানান তামিম খুব ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎ ভুল করেছেন, ‘আমার মনে হয় তামিম ফিফটির জন্য চার মারতে চেয়েছিল। সে ভুলে গিয়েছিল পুরো ইনিংস কীভাবে খেলেছে। সে সোজা খুব সুন্দর খেলছিল, আড়াআড়ি খেলছিল না। আমার মনে হয় তার আগ্রাসন বোলারদের লড়াইয়ে ফেলছিল, যা দারুণ। আমাদের ড্রেসিং রুম নির্ভার হচ্ছিল। আমার মনে হয় ৪৭ পর্যন্ত যে ভাল খেলেছে। খুব ভালো হতো যদি এভাবে চালিয়ে যেতে পারত।’

‘তামিম নিজের সহজাত ধরণে এগিয়েছে। টেস্টে বা ওয়ানডেতে সে শুরুতে আগ্রাসী থাকে। পরে থিতু হয়। পেসারদের আলগা বলগুলো সে মারে। আমার মনে হয় সে আগ্রাসী খেলতে গিয়ে আউট হয়েছে। এটা ছিল একটা বাজে মানসিক ভুল।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *