পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: অসমের ডিমা হাসাও জার্নালিস্ট ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার ডিমা হাসাও জেলার জেলা শাসক নাজরিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে জেলাশাসক মারফত অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্দেশ্যে এক স্মারকপত্র প্রেরণ করা হয়। উক্ত স্মারকপত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা তথা একাধিক দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মহারাষ্ট্রের ধাঁচে রাজ্যের কর্মরত সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করার কথা উল্লেখ করা হয়। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সরকার ও মিডিয়া হাউস গুলি কর্মরত সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত বেতন প্রদানের দাবি স্মারকপত্রে সন্নিবিষ্ট করা হয়। সাংবাদিকদের পেনশনের পরিমাণ বর্তমান ৮০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫০০০ টাকা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় (অরুণাচল প্রদেশ সরকার ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের পেনশনের পরিমাণ হিসাবে ২৫০০০ টাকা ঘোষণা করেছে)।
প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি ছাড়া জনকল্যাণে গঠিত রাজ্য কমিটি গুলোতে সরকারী পঞ্জীয়ন থাকা সাংবাদিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সদস্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয় । সংবাদপত্র তথা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে সবাই সম্মান করার পাশাপাশি সমালোচনাকে গণতান্ত্রিক অনুশীলন হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টিও স্মারকপত্রে তুলে ধরা হয়।স্মারকপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সাংবাদিক বা সংবাদ প্রতিষ্ঠানের উপর সরকারের সবধরনের নজরদারি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
অন্যথায় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হবে।উল্লেখ্য যে প্রতি বছর জার্নালিস্ট ইউনিয়ন অসম মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে আসছে। যাতে করে রাজ্যে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও স্বাধীনতা অক্ষুন্ন থাকে এবং এক্ষেত্রে সরকার ও সাধারণ জনগণকে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি অধিক সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই ৩ মে কে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে হিসাবে ঘোষণা করেছে।
এদিন স্মারকপত্র প্রদান কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি সূর্য থাওসেন, উপ সভাপতি এল কে হেংনা, সাধারণ সম্পাদক নির্মল সিং, কোষাধ্যক্ষ শিবন প্রসাদ নাথ, প্রশান্ত ভট্টাচার্য এবং বিপ্লব দেব প্রমুখ।

