শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

অভাব অভিযোগ জানতে প্রত্যন্ত গ্রামবাসীদের সঙ্গে হাফলঙের জেলাশাসকের মতবিনিময়

পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: আসামের ডিমা হাসাও জেলার জেলা শাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার সবেমাত্র কয়েক মাস হয়েছে। তবে এই কয়েক মাসের মধ্যেই পার্বত্য জেলার বিভিন্ন জাতি জনগোষ্ঠীদের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদানে সক্ষম হয়েছেন জেলাশাসক নাজরিন আহমেদ। তাঁদের খাদ্যাভ্যাস,জীবন যাত্রার পাশাপাশি অভাব অভিযোগ জানতে সাক্ষাৎ করেছেন।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিলে তাঁদের অভাব অভিযোগ সমস্যাগুলোকে কাছ থেকে দেখা এবং অনুভব করতেই ইতিমধ্যে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ক্রমে জেলা সদর হাফলং বেশ দূরের গ্রাম সাম্পারিদিসা, জাটিঙ্গার নিকটবর্তী এন লেইকুল, কেলোলো বা সেমদিখোর, গুঞ্জুঙের ন্যায় গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং গ্রামবাসীদের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কথোপকথন করেছেন।

গ্রামবাসীরা তাঁর পরিদর্শনে মনের কথা খুলে বলেছেন এবং জেলাশাসক নাজরিন আহমেদ বেশ মনোযোগ সহকারে শুনেছেন।গ্রামবাসীরা যেসব বাধার সম্মুখীন হয় যেমন দরিদ্রতা, রাস্তাঘাটের অব্যবস্থা,অপর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিদ্যালয়ের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন। অবশ্য তিনি গ্রামবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উপলব্ধি করে নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন। অর্থাৎ জেলা প্রশাসন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামবস্তির জনগণের মৌলিক সমস্যার আশু সমাধান করা চেষ্টা করবেন।

তবে শুধু অভাব অভিযোগ শুনতে নয় বরং ঝুম চাষে সৃষ্টি করা পরিবেশের ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা করেন। জেলা শাসক আহমেদ গ্রামবস্তির জনগণের সাথে ঝুম চাষের বিকল্প জীবিকার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। কারণ ঝুম চাষের ফলে বনভূমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পরিবেশের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে।তাই ঝুমের বিকল্প হিসেবে তিনি তাদেরকে কৃষিকাজ, মাশরুম চাষ, সুপারি বাগান ইত্যাদি বেশি করে করার পরামর্শ দেন। যা অধিক পরিবেশবান্ধব এবং আয়ের পথও প্রশস্ত করবে। এতে কম পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে।

এছাড়া গ্রামগুলিকে স্বচ্ছ ও সবুজ রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জেলাশাসক আহমেদ গ্রামবাসীদের সজাগ করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে প্রথমতঃ স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলা স্বাস্থ্য সম্মত বিষয়। তাছাড়া ইতিমধ্যে ডিমা হাসাও জেলা রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখলে পর্যটকদের আরও বেশি করে আকর্ষিত করা সম্ভব হবে। এতে রাজস্ব আদায় ও দ্বিগুণ হবে।তিনি গ্রামবাসীদের সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণে মূলক প্রকল্পের লাভ আদায়ের আহ্বান জানান। এদিন তিনি এন লেইকূল এলপি ও এম ই স্কুল পরিদর্শন করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং বিদ্যালয়ে বেশি করে শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

শিক্ষকদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে গ্রামের মানুষদেরকে শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আরও বেশি সজাগ ও সচেতন করার পরামর্শ দেন।এদিকে জেলা শাসকের পরিদর্শনে গ্রামবাসীরা অনেক আনন্দিত। কারণ জেলাশাসক তাঁদের দুয়ারে উপস্থিত হয়ে তাদের মনের কথা শুনেছেন। গ্রামবাসীরা আশাবাদী যে গ্রামের বিভিন্ন সমস্যার এবার কিছু একটা সুরাহা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *