ক্রীড়া প্রতিবেদক: দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮৫ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠককে গত ১১ মে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রীড়া ব্যক্তি ও সংগঠককে এই মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে।
তাদের মধ্যে আছেন দেশের ক্রিকেটের ৫ পরিচত মুখ। তারা হলেন- নাজমুল আবেদীন ফাহিম (সংগঠক ও ক্রিকেট কোচ), মোহাম্মদ জালাল ইউনুস (সংগঠক, ক্রিকেট), কাজী হাবিবুল বাশার (খেলোয়াড়, ক্রিকেট), আহমেদ সাজ্জাদুল আলম (সংগঠক, ক্রিকেট) ও খালেদ মাহমুদ সুজন (খেলোয়াড়, ক্রিকেট)।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়ে তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাইজিংবিডির কাছে। এই স্বীকৃতি নিয়মিত দিলে ভবিষ্যতে খেলোয়াড়-সংগঠকরা আরো অনুপ্রাণিত হবেন বলে তাদের মত। দেরিতে হলেও তারা এই পুরস্কার পাওয়ায় খুশি। তাদের প্রতিক্রিয়া হুবুহু তুলে ধরা হলো।
নাজমুল আবেদীন ফাহিম, ক্রিকেট উপদেষ্টা, বিকেএসপি
কখন পেলাম, আসলে এটা এতটা গুরুত্বপূর্ণ না। পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে রাষ্ট্র আমাকে সম্মান দিচ্ছে। আসলে যে সম্মানটা পায় তার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়ে। এটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। লম্বা ক্যারিয়ারে তো চড়াই-উতরাই থাকবে। কিন্তু শেষের দিকে এসে যদি এমন একটা স্বীকৃতি পাওয়া যায় তাহলে একটা পূর্ণতা আসে, পরিতৃপ্তি আসে। সামনে আরো আত্মবিশ্বাস বাড়বে, নিশ্চিন্তে কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা দেবে এটি।
আহমেদ সাজ্জাদুল আলম, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান
অনেকেই বলে পুরস্কার পেয়ে কেমন আনন্দ হচ্ছে। আমি কিন্তু পুরস্কার লাভের আশায় এসব করিনি। আমরা যখন শুরু করেছি এগুলো মাথায় ছিল না। এসব চিন্তা বাইরেই ছিল।
আজকে আমি স্মরণ করতে চাই বাবা-মাকে। তারা আমাকে যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য। তারা বেঁচে থাকলে খুবই আনন্দিত হতেন, খুবই খুশি হতেন আমার বিশ্বাস। আমার পরিবারের কথা বলতে হয়, একদিকে সময় দিতে গিয়ে আমি বলব তাদের বঞ্চিত করেছি। পরিবারের জন্য অনেক কিছু করা হয়নি যেটা করণীয় ছিল।
আমাকে সবচেয়ে বড় সুযোগ দিয়েছে আবাহনী ক্লাব। তারা আমাকে প্ল্যাটফর্ম না দিলে আমি সংগঠক হিসেবে থাকতে পারতাম না। আরো ১ জনের কথা আমি বলতে চাই, আবাহনী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আলিউল ইসলাম। যিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, আসো ম্যানেজার হও। তারপর থেকে ৪৫ বছর ক্রিকেটের সঙ্গেই আছি।
অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ছোট একটি জায়গা থেকে আজ আমরা জায়গা করে নিয়েছি সেরা দশে। এটাকে আমি পুরস্কার হিসেবে বলতে চাই না, বলতে চাই সম্মাননা।
খালেদ মাহমুদ সুজন, টিম ডিরেক্টর, বাংলাদেশ
পুরস্কার পাওয়া, স্বীকৃতি পাওয়া অবশ্যই আনন্দের বিষয়। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার বাংলাদেশের স্পোর্টসে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। সে হিসেবে অবশ্যই ভালো লাগছে। এটা যদি আরো আগে পেতাম ভালো হতো, তবে এগুলো নিয়ে এখন এত চিন্তা করি না। সময়তো অনেক আগেই চলে গেছে, এখন এগুলো চিন্তা করে লাভ নেই। পেয়েছি এটা বড় কথা। অনেক বড় ব্যাপার। এটা খেলোয়াড়দের জন্য, সংগঠকদের জন্য, মোট কথা সবার জন্য অনুপ্রেরণা। আপনি জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী আপনাকে পুরস্কার দিচ্ছে, এটা তো বড় একটা ব্যাপার।
জালাল ইউনুস, চেয়ারম্যান, ক্রিকেট অপারেশন্স, বিসিবি
দেরিতে পেয়েছি তবুও আমাদের জন্য এটি বিরাট ব্যাপার। এটা আমার ক্যারিয়ারে বড় অর্জন। জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অনেক বড় ব্যাপার, দেরিতে পেলাম এজন্য কোনো আক্ষেপ নেই। আমার ৪৫ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের এটা বড় প্রাপ্তি। জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়ে অনেক আনন্দিত। এটা নিরলসভাবে ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে আমাকে উৎসাহিত করবে। শুধু ক্রিকেট বোর্ডই না, যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন যেন ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে পারি।
হাবিবুল বাশার, জাতীয় নির্বাচক, বাংলাদেশ
অনেক আনন্দিত এবং আমি খুব ভাগ্যবান যে এই সম্মাননাটা পেয়েছি। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। অনেক সম্মানিতবোধ করছি। যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই এটা সম্মানের। খেলোয়াড়দের জন্য তো অবশ্যই স্বস্তিদায়ক হবে। আগে যা বললাম, ক্রীড়াবিদদের সবারই স্বপ্ন থাকে এটি পাওয়ার। প্রতি বছর পেলে হয়তো আরো ভালো হতো।

