পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: প্ৰায় এক সপ্তাহের প্রাকৃতিক দুর্যোগে তছনছ অসমের পার্বত্য ডিমা হাসাও। অসমের রাজধানী দিসপুরের সঙ্গে সামগ্রিক ভাবে বিচ্ছিন্ন পার্বত্য সদর হাফলং। রেলপথে পাহাড় বিচ্ছিন্ন হলেও এতদিন হাফলং-গুয়াহাটি সড়কপথ ক্রমে হাফলং-গুয়াহাটি ভায়া দেহাঙ্গী এবং হাফলং- গুয়াহাটি মহাসড়ক ভায়া মাইবাং বেশ সচল ছিল। তবে গতকাল হাফলং-লোয়ার হাফলং প্রধান সড়কপথের প্রায় দেড়শো মিটার এলাকা ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়।
রবিবার ফাটল ধরলেও সোমবার লোয়ার হাফলং এলাকার সড়কপথ আচমকাই যেন নিঃশেষ হয়ে যায়। এতে এক বিশাল খাদের সৃষ্টি করেছে। আজ ওই এলাকায় উপস্থিত হলে প্রকৃতির তান্ডবলীলার বাস্তব দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। এদিকে আজ সকালে জাটিঙ্গা এবং বড় হাফলঙের মধ্যে দুটি পৃথক স্থানে ধস নামার পাশাপাশি সড়কের অস্তিত্ব সঙ্কটে এসে দাঁড়িয়েছে।
আজ জেলাশাসক নাজরিন আহমেদ স্বয়ং লোক নির্মাণ বিভাগের হাফলং ডিভিশনের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার জগমোহন বড়োকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করেন। অবশ্য এর আগে সরকারী ভাবে উক্ত সড়কপথে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে করে সাধারণ জনগণ পায়ে হেঁটেও ওই এলাকায় পৌঁছতে না পারে। এদিকে বড় হাফলং এলাকায় প্রায় দেড়শো মিটার এলাকা ভয়ঙ্কর সঙ্কটের মুখে পড়ে হাফলঙের লাইফ লাইন স্বরূপ এই পথ।
এদিকে যেখানে সড়কপথে ধস নেমেছে ঠিক ওই ধস সরাসরি নিউ হাফলঙে দাঁড়িয়ে থাকা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কামরায় গিয়ে আঘাত করে এবং এতে ট্রেনের বেশ কয়েকটি কামরা ক্যাপসাইজ হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি পাহাড় থেকে নেমে আসা জলস্রোত এবং বালু পাথরে স্টেশন চত্বর একাংশ ঢাকা পড়ে যায়। উল্লেখ্য ১৯৯৮ সালে পার্বত্য শহর ভয়ঙ্কর সঙ্কটের মুখে পড়লে এবারের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
তাই প্রশাসন ছাড়া ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদ কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সবিশেষ পাওয়া তথ্যমতে বড় হাফলঙের ধস সরাতে সক্ষম হয়েছে হাফলং লোক নির্মান বিভাগ। তবে জাটিঙ্গা জেলা আদালতের কাছের সড়কপথের আশি মিটার এলাকা সম্পূর্ণ ভাবে বসে গেছে। অবস্থা স্থিতিশীল নয়।

