শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১৮, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যু, বাংলাদেশ হাইকমিশনের শোক

কমিউনিটি নিউজ ডেস্ক: ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা বর্ষীয়ান লেখক, সাংবাদিক ও জনপ্রিয় কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ মে) আনুমানিক স্থানীয় সময় সকাল ৬.৪৯ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রেরক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মরহুম আব্দুল গাফফার চৌধুরীর অসিয়ত অনুসারে বাংলাদেশে তাঁর মরদেহ পাঠাবে হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্বনামধন্য এ সাংবাদিক স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা।

১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়ার চৌধুরীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তার বাবা হাজী ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা জহুরা খাতুন। ১৯৫০ সালে গাফফার চৌধুরী পরিপূর্ণভাবে কর্মজীবন শুরু করেন। ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৫১ সালে ‘দৈনিক সংবাদ’ প্রকাশ হলে গাফফার চৌধুরী সেখানে অনুবাদকের কাজ নেন। এরপর তিনি বহু পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন।

মাসিক সওগাত, দিলরুবা, মেঘনা, ইত্তেফাক, আজাদ, জেহাদ ও পূর্বদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন বরেণ্য এ সাংবাদিক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা পৌঁছান। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলায় লেখালেখি করেন। এসময় তিনি কলকাতায় দৈনিক আনন্দবাজার ও যুগান্তর পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক জনপদ বের করেন।

১৯৭৩ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলজিয়ার্সে ৭২ জাতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যান তিনি। দেশে ফেরার পর তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কলকাতা নিয়ে যান। সেখানে সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে লন্ডনে যান। এরপর তার প্রবাসজীবনের ইতিহাস শুরু হয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশী’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফফার চৌধুরী। ১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পান তিনি। এছাড়া বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ আরও অনেক পদকে ভূষিত হয়েছেন।

মহান একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরী মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন। এক শোকর্বাতায় তিনি বলেন, “মহান একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত এবং দু:খ ভারাক্রান্ত। আমি মরহুম আবদুল গাফফার চৌধুরীর শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ হাইকমিশন সব ধরণের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষনিকভাবে মরহুমের পরিবারের পাশেই রয়েছে। জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি হারালো তার এক শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি হারালো তাঁদের বাতিঘর ও অভিভাবককে। বাংলাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী মহান একুশের অমর সংগীত, তাঁর অসাধারণ লেখা ও কমের্র মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও অশেষ অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। আমি মরহুম আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও মহান আল্লাহ তা‘য়ালার দরবারে তাঁর জান্নাতুল ফেরদৌস প্রাপ্তির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করছি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *