আসাম নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় নতুন করে আরও ৭ জন প্ৰাণ হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত বন্যায় ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা জল কমলেও ৩০ টি জেলা এখনও জলমগ্ন হয়ে আছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের (এএসডিএমএ)র দেওয়া তথ্য মতে এবছর বন্যায় ১ লক্ষ ৮৬৯.৭৬ হেক্টর চাষের জমি নষ্ট হয়েছে। ৭৫৯টি ত্ৰাণ শিবির খোলা হয়েছে, ৬৩৬ কেন্দ্ৰের মাধ্যমে ত্ৰাণ সামগ্ৰী বিতরণ করা হচ্ছে। ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৭৫ বন্যা দুর্গত লোক এই শিবিরগুলিতে আশ্ৰয় নিয়েছেন।
এদিকে রাজ্যের বরাক উপত্যকায় বন্যা পরিস্থিতি ক্ৰমশ খারাপ হচ্ছে। গতকাল থেকে জল কিছুটা কমলেও জলপ্লাবিত এলাকাগুলিতে সাপ, ব্যাঙের উপদ্ৰব বেড়েছে। জলে এলাকাবাসীর ঘর দুয়ারের যাবতীয় জিনিস পত্ৰ নষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন, পানীয় জল ছাড়া প্ৰয়োজনীয় খাদ্য সামগ্ৰী ছাড়াই দিন যাবন করতে হচ্ছে বন্যা প্ৰভাবিত মানুষগুলোকে। কিছু কিছু জায়গায় বন্যা দুর্গতরা বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে পানীয় জলের তেষ্টা মেটাচ্ছেন। এদিক ওদিক যাতায়াতে নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে। তাছাড়া শরীর স্বাস্থ্য খারাপ হলে প্ৰয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন বারাকবাসী। তার কারণ উপত্যকার সর্বত্ৰই জলে থৈ থৈ। এমন কি মানুষের মৃ্ত্যু হলেও মৃতের শেষ কার্য করতেও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণ শ্মশানও জলে জলাকার অবস্থা।
বৃহস্পতিবার রাজ্য প্ৰশাসনের তরফ থেকে হেলিকপ্টারে করে পানীয় জল, প্যাকেটজাত প্ৰয়োজনীয় খাদ্য সামগ্ৰী উপর থেকে উচু বিল্ডিংগুলোতে ফেলা হয়েছে। এই কয়দিন প্ৰশাসনের তরফ থেকে আরও প্ৰয়োজনীয় খাদ্য সামগ্ৰী দেওয়া হবে, আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গতকাল তিনি বরাকে শিলচর এবং কাছাড় জেলায় বন্যা কবলিত এলাকা আকাশপথে ঘুরে দেখেছেন। কোনও ধরনের নীতি নিয়মের মধ্যে ঢুকে সাহায্যে দেরী না করে যতটা শীঘ্ৰ সম্ভব সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী শর্মা।

