শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১১, ২০২৬

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের ১ লাখ রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের অনুরোধ

আরাকান নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এক লাখ রোহিঙ্গাকে যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

রবিববার রুয়ান্ডার কিগালিতে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিজাবেথ ট্রাসকে এ অনুরোধ জানান। কমনওয়েলথের অনুষ্ঠান চলাকালে দুই দেশের নেতা আলাদা করে এ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, যুক্তরাজ্য সারা বিশ্বে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার দিক দিয়ে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটি যদি ১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে পুনর্বাসন করে, তাহলে তারা আরও উন্নত জীবন পাবে এবং বাংলাদেশেরও অন্যায্য ভার লাঘব হবে।

উত্তরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাস রোহিঙ্গাদের মহানুভবতার সঙ্গে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘যুক্তরাজ্য এ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, তবে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সবচেয়ে ভালো সমাধান হবে তাদের নিজেদের দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ও টেকসই প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।’

বাংলাদেশে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা ট্রাসের কাছে বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।একইসঙ্গে তিনি তাদেরকে নিজেদের দেশে নিরাপদে ও টেকসই উপায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সরকারের উদাসীনতার কথাও উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশের পক্ষে ১১ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের ভার বহন করা আর সম্ভব হচ্ছেন না।

এলিজাবেথ ট্রাস আশ্বস্ত করেন, যুক্তরাজ্য আসিয়ান ও জি৭ জোটের মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে মিলে মিয়ানমারের ওপর এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করবে।

বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যের ঐতিহাসিক ও উপযোগী সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগের কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন স্টুডেন্ট ও বিজনেস ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম আবারও ঢাকা থেকে পরিচালনা অনুরোধ জানান। এতে প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে পারবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ২ দেশের রাজধানীতে বৈশ্বিক নারী শিক্ষা সম্মেলন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নেতাদের সংলাপ ও রোহিঙ্গা সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে একমত হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন যুক্তরাজ্যের করবিহীন জিএসপি সুবিধার মেয়াদকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি, মহামারি পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন খুব শিগগির বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য এলিজাবেথ ট্রাসকে অনুরোধ জানান।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *