শিরোনাম
শনি. ফেব্রু ২১, ২০২৬

বাংলাদেশে বন্যায় ১২০ জনের মৃত্যু

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: প্রায় দু’মাস ধরে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর বাসিন্দারা বন্যার কোপে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গত ১৭ মে থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ জন। এ সময়কালে বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যাসৃষ্ট দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন রোগে এদের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে বেশি ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে।

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। সিলেট ও সুনামগঞ্জে ফের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। মাঝখানে কয়েকদিন বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় জল নেমে গিয়েছিল।

কিন্তু গত দিন দুয়েকের প্রবল বর্ষণের জেরে ওই দুই জেলার বহু এলাকা ফের জলের তলায় চলে গিয়েছে।


গত মাসের শেষার্ধে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে সতর্ক করে দিয়ে তাঁর পরামর্শ, বন্যা বিরোধী পরিকাঠামোয় আরও জোর দিতে হবে।

তা নাহলে মানুষকে প্রতি বছর এমন নরক যন্ত্রণায় ভুগতে হবে, যা কাম্য নয়।চলতি বর্ষার মরশুমে বাড়তি বৃষ্টির জের ছাড়াও অসম ও মেঘালয়ের ঢলে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এবার বন্যার ভয়াবহতা রুপ নেয়। প্রশাসনকে সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, ”যখন বন্যা হয়, তখন আমাদের এত ভাবলে চলবে না। প্রতি বছর নদীমাতৃক বাংলাদেশে বন্যা হয়, মানুষকে জলযন্ত্রণা পোহাতে হয়। কিন্তু আমাদের পরিকাঠামো গড়তে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ‘এলিভেটেড রোড’-এর কথা বলেন। সেভাবে রাস্তা তৈরি করলে জল থইথই হলেও যাতায়াতে অসুবিধা হবে না। এছাড়া ড্রেজিংয়েও জোর দেওয়ার কথা বলেন হাসিনা। সারাবছর ধরেই ড্রেজিং করাতে হবে। গত দুমাসের চলা বন্যায় রংপুর বিভাগে ১২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪০, সিলেট বিভাগে ৬৩ জন, ঢাকা বিভাগে ১ জনসহ মোট ১১৬ জনের মৃত্যু হয়।এছাড়া বন্যাজনিত বিভিন্ন রোগে ১৬ হাজার ৪০৭ জন আক্রান্ত থাকলেও আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে ১৬ হাজার ৯৮১ জনে দাঁড়িয়েছে।

বন্যার শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৫৪৭ জন। আরটিআই (চোখের রোগ) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫৪ জন। বজ্রপাতে ১৫ জন, সাপের দংশনে ২০ জন, জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের। গত জুন মাসে বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ৪২ জনের।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *