শিরোনাম
শনি. ফেব্রু ২১, ২০২৬

মধ্য এশিয়ায় মার্কেটে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আসিফ শওকত কল্লোল, ঢাকা: মধ্য এশিয়ায় বিভিন্ন দেশের মার্কেটে বাংলাদেশের রপ্তানির সুযোগ বেশ উজ্জ্বল বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

রাশিয়া- ইউক্রেন বতর্মান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও উজবেকিস্তানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করায় এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান এবং অন্যান্য ইউরেশীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনিশের সঙ্গে দেখা করতে উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী উমুর্জাকভ সরদার উকতামোভিচ শুক্রবার বাংলাদেশে আসছেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইউরেশিয়ান ইউনিয়ন হল ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক চুক্তি। এর সদস্যরা হল রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং এর পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে রয়েছে মালদোভা, উজবেকিস্তান এবং কিউবা। এর সদর দপ্তর রয়েছে রাশিয়ার মস্কো এবং বেলারুশের মিনস্কে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, উজবেকিস্তান এবং রাশিয়ার সহযোগি দেশ আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং মলদোভার মধ্যে একটি স্থল পরিবহন চুক্তি এবং এফটিএ রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “এর ফলে উজবেকিস্তানের মাধ্যমে ইউরেশিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিতে পণ্য রপ্তানি করা আমাদের পক্ষে সহজ হবে।”

উমুরজাকভের নেতৃত্বে উজবেকিস্তানের ১৪-সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রাথমিকভাবে এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। তারা বাংলাদেশের ওষুধ ও অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যেও ব্যাপারেও আগ্রহী।

২০১৯ সালে, দুদেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা হয়েছিল। পরে অবশ্য সেটা আশানুরূপ ভাবে অগ্রসর হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজারবাইজানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এছাড়া শীঘ্রই কাজাখস্তানের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও ৩ কোটি ৪২ লাখ মানুষের বাজার উজবেকিস্তানের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে চায়।

প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য সমৃদ্ধ উজবেকিস্তানের উদ্যোক্তাদেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে উজবেকিস্তান এবং অন্যান্য রাশিয়ান সহযোগিদের কাছে পণ্য রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আগে আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিলাম। উজবেকিস্তানের সঙ্গে আমাদের এবারের আলোচনা এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত জাতিসংঘের কমট্রেড ডাটাবেসের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে উজবেকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *