হাবিবুর রহমান, ঢাকা: মায়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে শুধু সাধারণ রোহিঙ্গারাই নয়, তাদের ভিড়ে বাংলাদেশে এসে ঠাই নিয়েছে বেশকিছু সন্ত্রাসী-উ্গ্রবাদী রোহিঙ্গা গ্রুপও। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গুলিযুদ্ধে সোমবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে ৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প মধুরছড়ায় মোহাম্মদ নূর ছালাম (২৬) নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
সাধারণের ভীড়ে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা এখানে আসায় চাপ ও ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। এদের মূলপেশা মাদক চোরাচালান, তোলাবাজি, ক্যাম্পের অসহায় তরুণী-যুবতীদের হোটেলে নিয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা থেকে শুরু করে বিদেশে পাচার উল্লেখযোগ্য। এদের জঙ্গিপণার কারণে সাধারণ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশের নাগরিকরাও অতিষ্ঠ। যখন-তখন গুলিযুদ্ধ, খুন-খারাপি তো জলভাত।পুলিশও এই দুষ্কৃতিদের লাগাম টেনে রাখতে পারছে না। কেননা শরণার্থীশিবিরে ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে কে ভাল, আর কে সন্ত্রাসী-জঙ্গি খুঁজে বের করা কষ্ট।
বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি তথা শেখ হাসিনা সরকারকে বিশ্বের কাছে হেয় করতে তৎপর জঙ্গিপনার হোতা পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এই সংস্থাটি শুধু ভারতেই জঙ্গিপনা নয়, বাংলাদেশে নাশকতা চালাতে অস্ত্র ও টাকা ঢেলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদত দিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারের সাম্প্রতিক কিছু সন্ত্রাসী কমকাণ্ডে এ তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। এর থেকে রক্ষা পেতে রোহিঙ্গারা আওয়াজ তুলেছে- ‘আইয়্যু আইয়্যু অন্রা বেগ্গুন আরাকানত যাইগই’—যার অর্থ, এসো এসো আমরা সবাই আরাকান (মায়ানমার) চলে যাই।
প্রত্যাবাসন সমর্থিত এ ধরনের স্লোগান নিয়ে গত মাসে ‘গো হোম’ ক্যাম্পেইন করছেন রোহিঙ্গারা। গতমাসে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সি-ব্লকে রাতের আধারে হামলা চালায় মায়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা। এ সময় গুলিযুদ্ধে আরসা সদস্য মো. সলিম উল্লাহ (৩০) নিহত হয়।
এর আগে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে আরসা সদস্যরা। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নেন আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে আসেন আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইয়াবা তৈরি হয় না, রোহিঙ্গারাও ইয়াবা তৈরি করে না।
কিন্তু ইয়াবা আসে সীমান্ত দিয়ে। রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার জানান, দুই গ্রুপের গুলিযুদ্ধে এক যুবক নিহত হয়েছে। তিনি আরও জানান,মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ বেধেছে।

