শিরোনাম
সোম. ফেব্রু ২, ২০২৬

দেশে আলোচিত মিতু ও নুসরাত হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের দাবিতে পূর্ব লন্ডনে মানববন্ধন

মাহবুব আলী খানশূর, পূর্ব লন্ডন: সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যা মামলা ও ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের দাবিতে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে মানব বন্ধন করেছে ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (ইআরআই) এবং ফাইট ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ব্যক্তি স্বার্থে মিতু হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা দিতে চারটি জীবন শেষ করে দিয়েছেন। আসামি মুসা ও কালুকে গুম এবং নুরনবী ও রাশেদকে ক্রসফায়ার দিয়েছেন বনজ, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। অন্যদিকে ফেনীর নুসরাত হত্যাকান্ডে বনজ কুমার গং তদন্তের নামে তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে ঘুষ গ্রহন করে নির্যাতনের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে স্বীকারোক্তি আদায় করে নিরীহ ১৬ জন মানুষকে ফাঁসিয়েছেন। অথচ অভিযুক্ত ১৬ জন ঘটনার সময় সোনাগাজি ফাজিল মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। ষড়যন্ত্র করে মিতু ও নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত বনজ কুমার ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করায় ওই মামলা দু’টি নতুন করে তদন্তের দাবি রাখে।

ইআরআইয়ের সেক্রেটারি নউসিন মোস্তারী মিয়া সাহেব ও ফাইট ফর রাইটসের সভাপতি রায়হান আহমেদের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ হাসনাত হোসেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর অহিদ আহমেদ ও সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান। মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাসউদুল হাসান, ওসমান গনি, রোকতা হাসান, এমদুদুল হক, তরিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, আব্দুস সামাদ চৌধুরী, নাজমুল হক, ওমর ফারুক, শেরওয়ান আলী, এড. রোকসানা আক্তার, ফারজানা আক্তার, আসাদুল হক,নাজমূল হক, আব্দুল কাদের জিলানী, আলতাফ হোসে, আমিনুল ইসলাম মুকুল, মীর্জা আবুল আহমদ, আহমদ আলী , মোঃ কামরুল হাসান রাকিব প্রমুখ।

সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান বলেন, বনজ কুমার মজুমদার ষড়যন্ত্র করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে চাকুরিচুত করেন। মিতু হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী কামরুল ইসলাম শিকদার মুসাকে আজ অবদিও গ্রেফতার না করে তার স্ত্রীকে দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাটক সাজিয়েছে। এ মামলায় সত্যকে আড়াল করতে কালু নামের এক আসামিকেও গুম করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও নুরুন্নবী ও রাশেদ নামের দুইজনকে ক্রসফায়ার দিয়ে সত্য গোপন করেছে পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বনজ। এক মিতু হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা দিতে পিবিআই আরোও চারটি জীবনকে শেষ করে দিয়েছে। মিতু হত্যাকান্ড এমন কি রহস্য ঘেরা যে মুখ বন্ধ করতে চারটি জীবনকে শেষ করতে হলো। মুসা ও কালুকে গুম এবং নুরুন্নবী ও রাশেদকে ক্রসফায়ার দিয়েছে বনজ। যার আর্ন্তজাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ কারণে মিতু হত্যাকান্ড নতুন করে তদন্তের দাবি রাখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হাসনাত হোসেন বলেন, ফেনীর নুসরাত হত্যাকান্ডে বনজ কুমার মজুমদার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহন করে অন্যায় ভাবে নিরীহ ১৬ জনকে ফাসিয়ে দিয়েছেন। নুসরাত হত্যাকান্ডে যে সকল ব্যাক্তিদের ফাসানো হয়েছে তারা কেউ ঘটনার সময় সোনাগাজি ফাজিল মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। ঐ সময় মাদ্রাসাসহ সোনাগাজীর সকল গুরুত্বপূর্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও পিবিআই তা জব্দ করে আড়াল করেছে। মিতু হত্যার ঘটনার সময়ও জিইসি মোড়ের আশপাশের অনেক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে পিবিআই‘র নির্দেশে। আবার অনেক ক্যামেরা বন্ধ ছিল। পাশের একটি মন্দিরের পাশে সকল সময়ের ফুটেজ ধারণ করা হলেও হত্যাকান্ডের সময়টুকুর ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে। এ থেকেই বুঝা যায় বনজ কুমার ষড়যন্ত্র করে মিতু ও নুসরাত হত্যাকান্ড মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। যেহেতু পিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেকারণে এই মামলা দুইটি র‌্যাব বা সিআইডি অথবা নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে মানুষের সন্দেহ দুর করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে মিতু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুই আসামীকে বিচার বিভাগীয় হত্যা ও মুল পরিকল্পনাকারী মুসা ও কালু গুমের ঘটনায় আর্ন্তজাতিক তদন্তর জোর দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে বক্তারা চট্রগ্রামের মিতু ও ফেনির নুসরাত হত্যার সু্ষ্ঠ বিচারের জন্য মামলার পুনঃতদন্ত এবং অবিলম্বে পিবিআই প্রধান দুর্নীতিবাজ বনজ কুমারকে বরখাস্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের নিরাপরাধ ব্যক্তিদের গুম, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *