পশ্চিমবঙ্গ নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের মোরবিতে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা দেখে সাবধানী হওয়ার উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই পদক্ষেপেই এ বার রাজ্যের সব ঝুলন্ত সেতুগুলির কী অবস্থা তা জানতে চেয়ে তড়িঘড়ি রিপোর্ট চাইল নবান্ন। মঙ্গলবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত পার্বত্য এলাকাতেই এই ধরনের ঝুলন্ত সেতু রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া তো বটেই, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং সমেত বেশ কয়েকটি জেলায় ঝুলন্ত সেতু রয়েছে।
প্ৰত্যেক জেলার পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারের কাছে এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতুই নয়, রাজ্যে সমস্ত উড়ালপুলের কবে শেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল তাও জানতে চাওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টের সময় রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সূত্ৰের খবর সেই বৈঠকের আগেই রিপোর্ট পাঠানোর নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করেই এই রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
প্ৰসঙ্গত উল্লেখ্য যে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গুজরাট এর মাছু নদীর ওপর ঝলুন্ত সেতু আচমকা ভেঙে পড়ে। সেতুর বহন ক্ষমতা যেখানে ছিলো ১০০ মানুষের, সেই জায়গায় প্ৰায় ৪০০ র বেশি মানুষ সেখানে উঠেছিল। সেতু বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত প্ৰায় দেড়শর কাছাকাছি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৭৭ জনকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতরভাবে আঘাতপ্ৰাপ্ত হয়ে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শতাধিক মানুষ। ব্ৰিটিশ আমলের সেই সেতু আগস্ট মাসে মেরামত করা হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। খুলে দেওয়ার ৫ দিনের মাথায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফলে প্ৰশ্নের মুখে পড়েছে সেতু মেরামত করা সংস্থা এবং প্ৰশাসন। জানা গেছে প্ৰাশাসনের অনুমতি না নিয়ে সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গুজরাট সরকার প্ৰশাসন।

