শিরোনাম
সোম. মার্চ ২, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৫৭ রোহিঙ্গা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

আরাকান নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকার আস্তানা থেকে ৫৭ রোহিঙ্গা ও এক বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের সবাইকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে আস্তানায় জড়ো করেছিল দালাল চক্র।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা পাহাড়ি এলাকার পাশে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসময় মানবপাচার চক্রের (ইয়াছিন বাহিনী) প্রধান মো. ইয়াছিনসহ (২৩) চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্য গ্রেফতাররা হলেন-টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরগারছড়া জলু সওদাগরের ছেলে মো. জুবায়ের (৩৫), একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লম্বরীর বাদশা মিয়ার ছেলে নাজির হোছেন (৬১) ও নোয়াখালী বেগমগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তাজুল ইসলামের ছেলে রামিমুল ইসলাম রাদীদ (৩১)।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি বলেন, মানবপাচার চক্র উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক থেকে প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের তাদের আস্তানায় নিয়ে এসেছে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতিয়ারঘোনা পাহাড়ি এলাকার একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৫৭ জন রোহিঙ্গা ও একজন বাংলাদেশী মিলে ৫৮ জনকে উদ্ধার করা হয়।

মানবপাচার দালালরা এসব ভুক্তভোগীদের উন্নত জীবনযাপন, বেশি বেতনে চাকরি ও অবিবাহিত নারীদের বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এনে যৌন নিপীড়ন, প্রতারণামূলক বিয়ে এবং জবরদস্তিমূলক শ্রমসেবায় লিপ্ত করায়। দালাল চক্র প্রথমে ভুক্তভোগীদের এনে আস্তানায় ৪-৫ দিন আটক রাখেন। পরে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের যোগসাজশে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ায় পাচার করেন।

উদ্ধার ভিকটিম উখিয়ার থাইংখালি ক্যাম্প-১৩ সৈয়দ বলেন, মানব পাচারকারী দালালরা মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে ক্যাম্প থেকে নিয়ে এসেছে। পরে সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকায় দালালদের বসতঘরে রাখেন। পাহাড়ি এলাকার লাগোয়া বসতঘরে গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের আটক রেখেছে। তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *