শিরোনাম
শুক্র. মে ১, ২০২৬

মানুষের মুখ বন্ধ করতে ডিজিটাল আইনে মামলা: রিজভী

মানুষের মুখ বন্ধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

বুধবার (৮ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রবল স্রোতে মানুষ যখন ভীত ও উদ্বিগ্ন তারপরেও মানুষের মুখ বন্ধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে। বর্তমান নিপীড়ন মূলক এই মামলা দেশের ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করছে। 

কোভিড-১৯ নিয়ে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করায় গত তিন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, স্কুলের শিক্ষার্থী, নারীসহ প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ভালুকার একজন ১০ম শ্রেণির কিশোর শিক্ষার্থীও রয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানিকগঞ্জের বিএনপি নেতার কন্যা মাহমুদা পলিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আজ কয়েক মাস ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। এই করোনার দুর্যোগকালে জালিম শাহীর হিংস্র আচড়ে ক্রমাগত জর্জর দেশবাসী। দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। সর্বত্রই দারিদ্র্য, দুর্দশা, ক্ষুধা, বিনা চিকিৎসা ও অসাম্যের করুন কাহিনী। দেশবাসীর কোন স্বাধীনতা নেই, তাদের নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহাররের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নিজস্ব একটা বৈশিষ্ট্য আছে, সেটি হলো বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সহ্য না করা। তাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে ছলেবলে কৌশলে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের আলোকে কেড়ে নিয়ে নিজেদের দলীয় শাসনকে রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা। এখানে ভিন্ন দল ও মতের অস্তিত্বকে তারা কোন ক্রমেই মেনে নিতে পারে না। তারা মনে করে আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্র অভিন্ন একটি সত্তা। 

তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই তারা মনে করে দেশের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা। দেশটাকে পৈত্রিক সম্পত্তি বলে তারা মনে করে। সেজন্য তারা দম্ভে ও গর্বে আত্মস্ফীত। তাই বাকশালের বেওয়ারিশ লাশকেই কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর আওয়ামী লীগ একসাথে চলতে পারে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কোটি কোটি মানুষ বেকার। সুদে টাকা নিয়ে বাড়িভাড়া পরিশোধ করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ আর সরকারের মুখে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। যাদের জন্ম ঢাকায় তারাও এখন গ্রামে পাড়ি দিচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষদের উপার্জন বন্ধ থাকায় বৌ-বাচ্চাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন মন্ত্রীরা বলছে, ‘বাংলাদেশ এখন সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে গেছে’। সেই উন্নয়ন গেল কোথায়? 

এই চাউলের মৌসুমেও মোটা চাউলের কেজি ৪০-৪৫ টাকা এবং শাক-সবজির দাম সম্পূর্ণভাবে স্বল্পআয়ের মানুষের নাগালের বাহিরে। মানুষ অভুক্ত ও বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাচ্ছে। মানুষের ঘরে এখন খাদ্য নেই, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই ফলে ঋণ করে সুদে টাকা নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *