কলকাতা: কলকাতা-সহ দুই ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ওই এলাকাগুলিতে নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই আরও কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপাতত ৭ দিনের জন্য ওই এলাকাগুলিতে নজরদারি চলবে। ৭ দিন পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।
আনলক পর্যায় শুরু হতেই গোটা দেশে হু হু করে বাড়ছে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এরাজ্যের করোনার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের। সংক্রমণে লাগাম পরাতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে কলকাতা-সহ দুই ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৩ হাজার ৮৩৭। রাজ্যে করোনায় মৃত বেড়ে ৮০৪। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে এলাকাভিত্তিক কন্টেনমেন্ট জোন ও বাফার জোনে কড়া লকডাউন শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু কয়েকটা জায়গায় আক্রান্ত পাচ্ছি, তাই কন্টেনমেন্ট জোন। আপাতত ৭ দিনের জন্য কড়া নজরদারি চলবে। ৭ দিন পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এরই পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রুখতে আবারও মাস্ক পরায় জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোলে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মাস্ক ছাড়া বেরোবেন না। মাস্ক পরে না বেরোলে বাড়ি ফেরত পাঠাবে পুলিশ।’
রাজ্যে বেড়ে চলা সংক্রমণে লাগাম পরাতে এ এবং বাফার জোন মিলিয়ে কন্টেনমেন্ট জোন তৈরি করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ছোট-ছোট করে কন্টেনমেন্ট জোন তৈরি করে নজরদারি বাড়ানো হবে।

এলাকাগুলিতে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা, বাজার-দোকান সমস্ত কিছুই বন্ধ থাকবে। কাউকেই বাড়ির বাইরে বেরোনয় অনুমতি দেওয়া হবে না। সেই এলাকায় যান চলাচলও বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।

