গুয়াহাটি, ২৫ আগস্ট: আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করলেন সমাজকর্মী ও প্রাক্তন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সায়েদা সাইয়্যেদাইন হামিদ। সম্প্রতি অসম সফরে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশি হলে তাতে কী হয়েছে? ওরাও তো মানুষ। এই পৃথিবী আল্লাহ মানুষদের জন্য তৈরি করেছেন, এখানে তারা থাকতেই পারে।” এই মন্তব্যের পর রাজ্য ও জাতীয় স্তরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড়।
অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও ভূমি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের মাঝেই ড. হামিদের এই বক্তব্য আসে। তিনি আরও বলেন, “কাউকে পৃথিবী থেকে উৎখাত করা মানেই মুসলমানদের জন্য কেয়ামত ডেকে আনা। কাউকে তার ভূমি থেকে তাড়ানো মানবিকতার পরিপন্থী।”
এই মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু এক্স-এ সায়েদা হামিদকে তীব্র আক্রমণ করে লেখেন, “মানবতার নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এটি ভারতের ভূমি ও পরিচয়ের প্রশ্ন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও খ্রিস্টানদের উপর নিপীড়নের কথা কেউ বলে না। অথচ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে সুর চড়ানো হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সায়েদা হামিদ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হলেও, এরকম মন্তব্য করে ভারতের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।
ড. হামিদ একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অসম সফরে যান। ওই দলে ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী হর্ষ মন্দর, রাজ্যসভার সাংসদ জওহর সরকার প্রমুখ। তাঁরা নাগরিকত্ব, উচ্ছেদ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে রাজ্যে যান।
প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেন, “অসম সরকার অবৈধভাবে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে। এটা শুধুই উচ্ছেদের নামে গৃহচ্যুতি নয়, বরং এটা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” তিনি রাজ্য সরকারকে ‘অবৈধ কাজকর্মে’ লিপ্ত বলেও অভিযোগ করেন।
প্রতিনিধিদল জানায়, তারা অসমের গোলপাড়া জেলার উচ্ছেদ-কবলিত বনাঞ্চলে যেতে চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
এই সফর অসমের নাগরিক সমাজের সংগঠন ‘অসম নাগরিক সন্মিলন’-এর আমন্ত্রণে সংগঠিত হয়। সংগঠনের সদস্য ও রাজ্যসভার সাংসদ অজিত কুমার ভূঁইয়া জানান, “আমরা প্রায়ই সমাজের বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানাই, যাতে তারা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পান এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মত প্রকাশ করতে পারেন।”
ড. সায়েদা হামিদের মন্তব্য এবং সফরের পরিপ্রেক্ষিতে অসমে অভিবাসন, সংখ্যালঘু অধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক ফের চাঙ্গা হয়েছে।