শিরোনাম
বুধ. ডিসে ৩১, ২০২৫

খালেদা জিয়ার অখণ্ড ভারত বিরোধী রাজনীতি অব্যাহত রাখবে বিএনপি, আশা অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলনের

৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আরিয়ান খান গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একটি শোকবার্তা পাঠান।

মরহুমার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে শোকবার্তায় বলা হয়, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায় ছিলেন। দল মত নির্বিশেষে তিনি বাংলাদেশের আপামর মানুষের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। দম্ভ দিয়ে নয়, ঘৃণার ফুলকি ছুটিয়ে নয়, দাপট দেখিয়ে নয়, দেশপ্রেমের সাধনাবলে তিনি মানুষের এই ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তিনি দেশের জন্য, মানুষের জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য, নিজের জীবনকেও ছোট করে দেখতে শিখেছিলেন। ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি আপোষহীন ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরীদের সিপাহাসালার ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি পুরো জাতির অবিসংবাদিত রাজনৈতিক অভিভাবকে পরিণত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগত কষ্টকে ছাপিয়ে আদর্শের পথে অটল ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, এই শূন্যতা পুরণ হবার নয়। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা, আগামী প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।”

বার্তায় বলা হয়, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তাঁর সমসাময়িক বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের নারী প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে ছিলেন। কন্যা শিশুদের জন্য তিনি অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। দেশের সকল মেয়েকে তিনি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক পড়াতে চেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের নারীদের জন্য অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা‘বেগম রোকেয়া’ পদক প্রবর্তন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনগত অধিকার ও নাগরিক প্রশাসন, স্থানীয় সরকার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন। নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য তিনি বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী’ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। দেশের নারীদের উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান দেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দিবে বলে নিজের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ইন্ডিয়াকে কোনো ট্রানজিট সুবিধা দেননি। তিনি টোল ছাড়া ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার তীব্র বিরোধী ছিলেন। উপরন্তু তিনি গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশ তার প্রাপ্য গঙ্গার পানি পাচ্ছে না। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান উত্থাপন করেছিলেন এবং দিল্লির শাসকদের চাপ দিতে বলেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকটকে তিনি বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই দেশ, এই দেশের মাটি, মানুষই আমার সব কিছু। দেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নেই। এটাই হলো আমার ঠিকানা। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তিনি একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক ছিলেন।”

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, “১৯৯১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ওদের হাতে গোলামীর জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা’। স্বৈরাচার পতনের পরে এটাই ছিলো সবচেয়ে তেজষ্ক্রিয় রাজনৈতিক প্রবাদ। এরপরে বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক নেতা কখনও দেশের সম্মিলিত ভয় এবং স্বপ্নকে এত গভীরভাবে, এত সহজে ভাষা দিতে পারেননি। অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন এই পতাকা সমুন্নত রাখবে ইনশাআল্লাহ।”

অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার অখণ্ড ভারত বিরোধী রাজনীতি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, বেঁচে থাকতে মাথা উঁচু ও সিনা টান করা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই হবে তাঁর প্রতি উপযুক্ত সম্মান। আশাকরি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বেগম খালেদা জিয়ার অখণ্ড ভারত ও আধিপত্যবাদ বিরোধী আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আপোষহীন রাজনীতি অব্যাহত রাখবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *