লন্ডন, ১২ জানুয়ারি: উৎসবমুখর পরিবেশে যুগপূর্তি উদযাপন করলো কমিউনিটির শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা সাপ্তাহিক দেশ। ১০ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির বিভিন্নস্তরের মানুষ দেশ পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং শেষ দিকে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুগপূর্তি উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃটিশ বাংলাদেশী এমপি আপসানা বেগম লন্ডনের বাংলা সংবাদ মাধ্যমগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সকলের প্রতি সহযোগিতার আহবান জানিয়ে বলেন, কমিউনিটির উন্নয়নে বাংলা মিডিয়ার অবদান অপরিসীম। তাই মিডয়াকে টিকিয়ে রাখেতে কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ফয়সল মাহমুদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ রহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের ও বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার।
অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি কে এম আবু তাহের চৌধুরী, দর্পন ম্যাগাজিন ও টিভির সম্পাদক রহমত আলী, বিবিসি বাংলার সাবেক সিনিয়র প্রডিউসার মাসুদ হাসান খান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, শাহজালাল ব্যাংকের ডাইরেক্টর ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার হারুন মিয়া সিআইপি, স্পেকট্রাম ও সানরাইজ রেডিওর প্রেজেন্টার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামাল, বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহার, এটিএন বাংলা ইউকের হেড অব নিউজ সাঈম চৌধুরী, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার সালেহ আহমদ, কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই- আলম, ব্রিটিশ বাংলাদেশী হুজ হু সম্পাদক আব্দুল করিম গনি, পিসি স্কয়ার্স সলিসিটর্স এর প্রিন্সিপাল সলিসিটর-এডভোকেট ইমতিয়াজ হোসাইন, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল মেহেদী ও দ্যা সানরাইজ টুডে সম্পাদক এনাম চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বৃটেনে প্রিন্ট মিডিয়ার এ ক্রান্তিকালে ও ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে টানা বারো বছর সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকা সফলভাবে পরিচালনার জন্য সম্পাদক তাইসির মাহমুদ ও পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান । বক্তারা দেশ পত্রিকার সংবাদের মান ও গুরুত্ব,পত্রিকার সেট আপ, গেট আপ ও ডিজাইনের প্রশংসা করে বাংলা মিডিয়াকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কমিউনিটির সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান । বক্তারা বিলেত থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকায় বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞাপন প্রদানেরও আহ্বান জানান।
আপসানা এমপি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পাঠক ও দর্শকদের জন্য সত্য মিথ্যা নিরুপন কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই আমাদেরকে সংবাদপত্র ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তিনি সাপ্তাহিক দেশ এর ১২ বছর পূর্তিকে গৌরবজনক অধ্যায় উল্লেখ করে বলেন, কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ ইস্যূতে সাপ্তাহিক দেশ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল যখন কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ ফান্ড বাতিল করে দেয় তখন দেশ পত্রিকা প্রতিবাদ সমাবেশগুলোর রিপোর্ট গুরুত্বসহ প্রকাশ করে । আপসানা বলেন, বাংলা সংবাদপত্রে যখন কমিউনিটির বড় কোনো ঘটনার সংবাদ দেখতে পান, তখন মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান- কেন সংবাদটি মুল ধারার সংবাদ মাধ্যমে নেই। তাছাড়া তিনি সংসদে অনেক জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি সাপ্তাহিক দেশ এর দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, আমি আশাবাদী সাপ্তাহিক দেশ আরো কয়েকযুগ বেঁচে থাকবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন যে, প্রিন্ট মিডিয়াকে বাঁচিয়ে রাখা একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। সংবাদের বিস্তারিত জানতে হলে প্রিন্ট মিডিয়ার দরকার। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আবার নতুন প্রজন্মদের বাংলা ভাষা ও অন্যান্য কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ শিক্ষা চালু করেছে। তাই তিনি সবাইকে ছেলে মেয়েদের বাংলা শিক্ষা দানের সুযোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। কে এম আবু তাহের চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে অতীতের মত সাপ্তাহিক দেশ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা,সম্ভাবনা ও সফলতা তুলে ধরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইসির মাহমুদ উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ১২ বছর টিকে থাকার মুল শক্তি কমিউনিটির মানুষের ভালোবাসা। এমন ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে দেশ বেঁচে থাকবে আরো বহু বছর। তিনি বলেন- আমরা জাতীয়, আন্তর্জাতিক সংবাদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই কমিউনিটির মানুষের হাসি কান্নার সংবাদকে। যে খবরটি কোনো সংবাদ মাধ্যমেই আসছেনা, সেটি আসছে সাপ্তাহিক দেশ-এ। সংবাদটি হয়তো ঘটনার এক সপ্তাহ পরে ছাপা হচ্ছে । কিন্ত সেটি সংবাদমূল্য হারাচ্ছে না । কারণ এটি অন্য কোনো মিডিয়ায় প্রকাশ হচ্ছেনা। যখন প্রকাশ হচ্ছে তখনই নতুন।
তিনি বলেন, অনেক সময় যখন কারো বাসায় কিংবা অফিসে যাই। দেখতে পাই টেবিলে শোভা পাচ্ছে সাপ্তাহিক দেশ। পাঠকের কোনো অর্জনের নিউজটি তিনি ফ্রেম করে ঝুলিয়ে রেখেছেন ঘরের দেয়ালে। যার কথা কেউ বলছেনা, আমরা তার কথা বলি। এটাই আমাদের টিকে থাকার শক্তি। এই শক্তির জোরেই বেঁচে থাকতে চাই আরো অনেক বছর। তিনি বলেন, দেশ পত্রিকা শুধু মুদ্রিত ভার্সনেই সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায়ও রয়েছে আমাদের সক্রিয় অবস্থান। চব্বিশ ঘন্টাই সংবাদ আপলোড হচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি আমরা দেশ অনলাইন টিভি’র যাত্রাও শুরু করেছি। সুতরাং যেকোনো সংবাদ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা দর্শক-পাঠকের সামনে তুলে ধরতে পারছি। তিনি পত্রিকার অগনিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

