সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক: ১৭ ডিসেম্বর থেকে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে পাওমুম পার্বন ২০২৫। শেষ হবে ২৪ ডিসেম্বর। লামা ও বান্দরবান থেকে আগত ম্রো শিশু ও সম্প্রদায়ের সদস্যরা এতে অংশ নেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রোডাকশন পরিচালক ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন ম্রো ভাষা, শিল্পকলা, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজধানীতে প্রথমবারের মতো আদিবাসী শিশুদের সৃজনশীল কাজ প্রদর্শনের সুযোগ করে দেবে।
লামায় অবস্থিত পাওমুম থারক্লা একটি সম্প্রদায়নির্ভর বিদ্যালয়, যা গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ম্রো ভাষা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং শিশু শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। উৎসবে অংশ নেওয়া অনেক শিশুর জন্য এটিই পাহাড়ের বাইরে তাদের জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা।
‘সহজ অফিসিয়াল ট্রাভেল’ পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা লামা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪০ জন ম্রো শিশু ও কমিউনিটি সদস্যদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করেছে। অনুষ্ঠানে সমর্থনকারী অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছেন: প্রাচ্যানাট থিয়েটার (থিয়েটার পার্টনার), টুগেদার ফর বাংলাদেশ (ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ভলান্টিয়ার পার্টনার), ঝিড়ঝিড় প্রাইভেট লিমিটেড (কনসার্ট পার্টনার), গ্রাম চা ইনিশিয়েটিভ (ফুড পার্টনার) এবং কার্টুন পিপল (প্রদর্শনী ও ডেকোরেশন পার্টনার)। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ভেন্যু ও লজিস্টিকস পার্টনার হিসেবে আয়োজন করছে।
উৎসবে শিশুদের তৈরি শিল্পকর্ম, বাঁশের কারুশিল্প, ফটোগ্রাফি, বুননের প্রদর্শনী, শর্ট ফিল্ম এবং লাইভ পারফরম্যান্স যেমন ম্রো নৃত্য, গান ও ঐতিহ্যবাহী প্লাং বাঁশি উপস্থাপন করা হবে। এছাড়াও সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন কর্মশালা, গাইডেড ট্যুর এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
পাওমুম থারক্লার সহ-প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার পারভেজ বলেছেন, “আমাদের স্কুলটি শুরু হয়েছিল একটি ছোট বাঁশের ঝুপড়িতে, মাত্র কয়েকজন শিশু নিয়ে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা শিক্ষার মাধ্যমে তাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার কাজ করে যাচ্ছি। ‘পাওমুম পার্বন ২০২৫’ শিশুদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যাতে তারা পাহাড়ের বাইরে নিজেকে তুলে ধরতে পারে। আমরা সমস্ত অংশীদারের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা এই যাত্রাকে সম্ভব করেছেন।”
সংগঠকরা উল্লেখ করেছেন যে এই অনুষ্ঠানটি বড় কোনো কর্পোরেট স্পনসর ছাড়া আয়োজন করা হয়েছে এবং এটি মূলত স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত শুভানুধ্যায়ীদের মাধ্যমে সমর্থিত, যারা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং আদিবাসী অধিকার প্রচারে বিশ্বাস রাখেন।
উৎসবটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। দর্শকরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিশু ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিশে ম্রো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিদিন বিকেল ৩টা – রাত ৯টা (রবিবার বন্ধ) পর্যন্ত এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

