শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

তারেক রহমান দেশে ফেরার পর আরো বেপরোয়া মমিনুর রহমান

  • খন্দকার মমিনুর রহমানের দাপটে অস্থির প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
  • তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

শফিকুল ইসলাম কাজল, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অস্থির করে রেখেছেন নন ক্যাডার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার মমিনুর রহমান। বগুড়ায় বাড়ি ও তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে তিনি কাউকে কোন কাজই করতে দিচ্ছেন না। ফলে কার্যালয়ে কর্মরত সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আওয়ামী লীগ আর বিএনপি’র মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষও কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। এতে করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। বিএনপি ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সরকারের সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) খন্দকার মমিনুর রহমানকে অতীতে দলীয় কোন কর্মকান্ডে কখনও দেখিনি। গত ১৬ বছর দলের সাথে তাঁর কোন সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ নিয়ে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ‘মমিনুর রহমানের দাপটে অস্থির প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়’ শিরোনামে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন বেরিয়েছিলো। কিন্তু এতে করেও খন্দকার মমিনুর রহমানের দাপট একটুও কমেনি। উপরন্তু ২৫শে ডিসেম্বর তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরার পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। ফলে উপায়ান্তর না দেখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ ও হস্তক্ষেপ কামনা করে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, খন্দকার মমিনুর রহমান নামে একজন সহকারী সচিবকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পদায়ন করায় তিনি অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই ম্যাসেজ দিচ্ছেন যে, বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ভাইয়া আমাকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সাজাতে পাঠিয়েছেন। এতে আপনার দলের বদনাম হচ্ছে এবং জেলা হিসেবে গোপালগঞ্জের ন্যায় বগুড়াকেও ঘৃণিত করে তুলছে। তার কর্মকান্ডে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রত্যেকটি কর্মকর্তা-কর্মচারী রীতিমত হতবাক, স্তম্ভিত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং বিস্মিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী হেনস্তা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, তিনি তাদেরকে রীতিমত হেনস্তা করছেন এবং সবার সামনে তুই-তুমি বলে সম্বোধন করে হেয়-প্রতিপন্ন করছেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের হাতেগোনা ২/১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতিত প্রায় সকলের কাছেই তিনি এক মুর্তিমান আতংক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অভ্যন্তরে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল থেকে নিজের জন্য এবং তার মেহমানদের জন্য নিয়মিত ফ্রি খাবার সরবরাহ করতে বাধ্য করছেন। শীতবস্ত্র বিতরণের আওতায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল বিতরণ শেষ না হতেই তিনি অবশিষ্ট সকল কম্বল ২২৪ নম্বর কক্ষে তালাবন্ধ করে রেখেছেন, ফলে কর্মচারীগণ কম্বল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তাই না, তিনি আপনার নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিবহন পুল থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ২/৩ টি সরকারি গাড়ি নিয়ে কয়েক বার বগুড়া সফর করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ২১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) এবং মহাপরিচালক (প্রশাসন)-কে প্রবেশ পাশ ইস্যূ না করতে বাধ্য করেছেন। এক পর্যায়ে উক্ত ২১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন, ফলে উক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও আজ অত্যন্ত মানবেতন জীবন-যাপন করছেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দাপ্তরিক কাজে প্রবেশ করলে তাদের সাথে যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করছেন। খন্দকার মমিনুর রহমানের হুকুম না মানতে চাইলে তিনি “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়ে যাক, বিএনপি ক্ষমতায় আসুক তোদের দেখে নিবো” বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন। উপরন্তু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করার জন্য তিনি যেসব নথির কাস্টোডিয়ান নন, সেসব গুরুত্বপূর্ণ নথিসমূহও তার হেফাজতে নিয়েছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীসূলভ কোন আচরণ তার মধ্যে বিদ্যমান নেই। তিনি আপনাকে ভাইয়া বলে সম্বোধন এবং কথায় কথায় আপনার রেফারেন্স ব্যবহার করার কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছেন। আপনার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তদন্তের মাধ্যমে আপনি এর প্রতিকার করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ প্রত্যাশা করছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *