শিরোনাম
শুক্র. মে ১, ২০২৬

যে নিয়ম মানলে দূর হবে কিডনির সমস্যা

শরীর ঠিক রাখতে কিডনি দারুণ ভূমিকা রাখে। এটির কাজ হলো রক্ত পরিস্রুত করে শরীরের অপ্রয়োজনীয় বস্তু বা আবর্জনা প্রস্রাব আকারে শরীর থেকে নিষ্কাশন করা। প্রথমে কিডনি থেকে ইউরেটার দিয়ে প্রস্রাব আসে ইউরিনারি ব্লাডারে এবং তা ইউরিথ্রা হয়ে বের হয়ে যায়।

এই পুরো রাস্তা অর্থাৎ ইউরেটার থেকে শুরু করে ইউরিথ্রা পর্যন্ত ট্র্যাক্টকে বলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট। এটির কোনো অংশে সংক্রমণ হলে তার নাম ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বা মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ। ইউটিআই প্রতিরোধে করণীয় হলো- প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করা, যাতে দৈনিক কমপক্ষে দুই লিটার প্রস্রাব নির্গত হয়। এতে প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রথলির ভেতরে থাকা জীবাণু বের হয়ে যায়।

কিডনি সুস্থ রাখতেও পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। কখনো প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে ওঠার পর প্রস্রাব করার অভ্যাস করতে হবে। মলদ্বারের জীবাণু মূত্রপথে এসে যাতে সংক্রমণ না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রস্রাবের রাস্তার জ্বালাপোড়া বা জীবাণুজনিত আক্রমণ সন্দেহ হলে চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি। এ সময় যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করা ভালো। সহবাসের আগে ও পরে মূত্রনালি ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন। যৌনসঙ্গমের পর প্রস্রাব না করে ঘুমিয়ে পড়বেন না।

কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মেয়েদের মাসিকের সময় ঘন ঘন স্যানিটারি প্যাড বদলে ফেলা ভালো। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার বা এ জাতীয় পোশাক যেন অন্য কারও সংস্পর্শে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। টাটকা ফলের রস বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ফলের রস বেশি করে খাবেন। ইউটিআই হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পূর্ণ ডোজ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।

কিডনি আক্রান্ত হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই কিডনির যত্নে কিছু নিয়ম মানা জরুরি। জেনে নিন কিডনির যত্নে যে পাঁচটি নিয়ম আপনাকে মানতেই হবে।

এক. প্রতিদিন অবশ্যই অন্তত ৭-৮ গ্লাস (২-৩ লিটার) পানি খাওয়া দরকার।

দুই. কখনওই প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। এতে সংক্রমণের (ইনফেকশন) আশঙ্কা থাকে।

তিন. আপনার বয়স চল্লিশ বছরের বেশি হয়ে গেলে নিয়মিত বছরে অন্তত একবার ডায়বেটিস ও ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করান। ডায়বেটিস বা ব্লাড প্রেশার থাকলে তা নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রনে রাখুন।

চার. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ, বিশেষ করে ব্যথানাশক (পেনকিলার) ওষুধ বা কোনও অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।

পাঁচ. বছরে অন্তত একবার প্রসাবের মাইক্রো-এলবুমিন পরীক্ষা করান।

তথ্যসূত্র: ডক্টর কেরি উইলস (ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন, নিউ ইয়র্ক)।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *