প্রদীপ ঘোষ, কলকাতা: এপ্রিল-মে মাসের বিদ্যুতের বিল স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে সিইএসসি। রাজ্যের বিদ্যুত্ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছেন, জুন মাসের বিদ্যুতের বিল আপাতত দিতে হবে না। কিন্তু তাতেও শহর কলকাতায় বিদ্যুতের বিল নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান বিক্ষোভে খামতি নেই। শুক্রবার যেমন সিইএসসি-র বিরুদ্ধে একযোগে রাস্তায় নামল বিজেপি ও বামফ্রন্ট।
কলকাতায় ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশনের বিভিন্ন আঞ্চলিক দফতরের সামনে বিক্ষোভে উত্তাল হল বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা। দক্ষিণ কলকাতায় মোমিনপুরে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার বাড়ির অদূরে হ্যারিকেন, মোমবাতি নিয়ে পথসভা করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেয় জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। কল্লোল মজুমদার, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়, ফৈয়াজ খানরা বলেন, ‘স্থগিত নয়! অবিলম্বে শহরবাসীর উপর থেকে তিন মাসের বিদ্যুতের বিল প্রত্যাহার করতে হবে। নির্দিষ্ট ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুত্ ব্যবহারের ছাড় দিতে হবে।’ অবস্থান-বিক্ষোভের পরে সিইএসসি-র তারাতলা দফতরে গিয়ে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয় জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে।
একদিকে যখন মোমিনপুরে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার বাড়ির অদূরে বামফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকরা অবস্থান-বিক্ষোভ করছেন, অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি-র মহিলা মোর্চাj সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে ঘেরাও করা হয় সিইএসসি-র ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন শাখা। অগ্নিমিত্রার নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ শতাধিক মহিলা ও যুব বিজেপি কর্মী ঘেরাও করেন ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন। সিইএসসি-র আঞ্চলিক দফতরের সামনে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপির মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘লকডাউনের জন্য মানুষ এমনিতেই দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন। তার মধ্যে চড়া, ভুতুড়ে বিল মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই বিল মুকুব করতে হবে।’ সিইএসসি-র সঙ্গে রাজ্য সরকারের গোপন আঁতাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করতেও থামেননি রাজ্য বিজেপির মহিলা সভানেত্রী।

