শুক্রবার ‘নট আউট নোমান’-এর ইউটিউব লাইভে বোমা ফাটিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। জানিয়েছেন, ‘২০০৮ সালে ক্রিকেটার হিসেবে অবসর নেয়ার পর থেকে আমি বিসিবির হয়ে কোচিং করাতে চাই। কিন্তু আমাকে আজ অবধি কেউ বিসিবির কোন কোচের চাকরি দেয়নি, বরং বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বোর্ডে গিয়ে দেখা করতে গেলে ফোনে বলে দেয়া হয়েছে, ব্যস্ত আছি। এখন দেখা করা যাবে না।’
দেশের সবসময়ের অন্যতম সেরা পারফরমারদের একজন তিনি। টেস্ট-ওয়ানডেতে সবার আগে ১০০ উইকেট শিকারি। প্রথম ওয়ানডে জয়ের প্রধান রূপকার। প্রথম টেস্ট জয়েরও অন্যতম নায়ক। স্পিনার হিসেবে খুবই মেধাবি। বিশ্বের বড় বড় ক্রিকেট বোদ্ধা ও বিশেষজ্ঞের চোখে, তিনি বাংলাদেশের সবসময়ের সেরা স্পিনার।
সেই রফিক বিসিবির কোচ হতে চান, আজ প্রায় ১২ বছর। অথচ তাকে চাকরি দেয়া হয়নি। তিনি বারবার কাজ চেয়েও পাননি। এমন খবর শুনে ভক্ত-সমর্থকরা বিস্মিত, হতাশ। সবাই রফিকের ওপর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এটা অন্যায়, কিছুতেই এমন হওয়া উচিৎ নয়। রফিকের মত সেরা স্পিন ট্যালেন্ট দেশের ক্রিকেটের বড় সম্পদ, এই রত্নকে কাজে লাগানো উচিৎ বিসিবির- এমন কথাও অনেকের মুখে মুখে।
এদিকে রফিকের এমন অভিযোগ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন বিসিবির অন্যতম পরিচালক ও গেম ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন। রোববার জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে রফিকের অভিযোগ খন্ডন করে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছি। রফিক কত বড় মাপের স্পিনার, কত ডেডিকেটেড ক্রিকেটার ও গ্রেট ফাইটার- এসব আমার খুব ভাল জানা। পারফরমার রফিকের বিষয়ে আমি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমিও চাই মোহাম্মদ রফিক আর খালেদ মাসুদ পাইলটের মত ট্যালেন্টরা নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে কোচিংয়ে আসুক এবং বিসিবির কোচ হিসেবে কাজ করুক। তাতে দেশের ক্রিকেটের লাভ হবে।’
সুজন যোগ করেন, ‘কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, দুজনকেই আমরা বিভিন্ন সময় বোর্ডের কোচিং প্যানেলে যোগ দিতে বলেছি এবং প্রস্তাবও দিয়েছি বোর্ডের কোচ হতে। কিন্তু কঠিন সত্য হলো, তারা রাজি হয়নি। অথচ আমি খুব অবাক হলাম শুনে যে রফিক অভিযোগ করেছে, সে নাকি গত ১২ বছর ধরে বিসিবিতে কোচের চাকরি চেয়ে পায়নি।’
রফিক যেটা বলেছে, ১২ বছরে সে অনেকের কাছে অনুরোধ করেছে, তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুজন বলেন, ‘রফিক বোর্ডে আসার পর ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তার সঙ্গে দেখা না করার অভিযোগটা আমি মানতে পারছি না। রফিক কারও নাম উল্লেখ করে বলুক, অমুকে বোর্ডে থেকেও, তার সঙ্গে দেখা না করে পরে আসতে বলেছে, তাহলে বুঝতাম। জানি না কার কথা বলেছে।’
‘বোর্ডে আমরা এখন যে তিন পরিচালক রফিকের সতীর্থ ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলেছি সেই আকরাম ভাই (ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান আকরাম খান), দুর্জয় (হাই পারফরমেন্স প্রধান নাইমুর রহমান) আর আমি বোর্ডে থেকে রফিকের সঙ্গে দেখা না করে ব্যস্ত বলে কাটিয়ে দেব- এটা অসম্ভব! হতেই পারে না। আমি কখনওই এ কথা বিশ্বাস করতে চাই না।’
‘আমার মনে হয় না বোর্ডের সিইও সুজনও (নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন) রফিকের মানের কোন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারের সাথে এতটুকু দুর্ব্যবহার করতে পারে। বরং বরাবরই সিইও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই বলছি এটা অসম্ভব, হতেই পারে না। রফিকের মত ক্রিকেটারের সঙ্গে অমন অসৌজন্যতামূলক আচরণ করার কথা না, আমি তা বিশ্বাসও করতে চাই না।’

