শিরোনাম
শনি. জানু ৩১, ২০২৬

আর নয় হয়রানি, করোনা রোগীকে রেফার করলেই বেড বুক করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল!

হাইলাইটস
করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভরতির ক্ষেত্রে হয়রানি কমছে না।
হাসপাতালে যাওয়ার পর যদি কোনও রোগীকে সেই হাসপাতাল ভরতি নিতে না পারে, তাহলে রোগীর পরিজনদের আর চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই।
অন্যান্য রোগ নিয়ে অনেক উপসর্গহীন রোগী হাসপাতালে যাচ্ছেন।

ডিজিটাল ডেস্ক:- আক্রান্ত-মৃতের নতুন নতুন রেকর্ডের মধ্যেই মোট বাংলায় কোভিড টেস্টের সংখ্যাও ছুঁতে চলেছে ১০ লাখের গণ্ডি। মঙ্গলবারের স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ২২,৩১৫ নমুনা-সহ এ পর্যন্ত মোট ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার নমুনা টেস্ট হয়েছে রাজ্যে। স্বাস্থ্যকর্তাদের আশা, বুধবারও গত ২৪ ঘণ্টার মতো টেস্ট হলে, এক শতাংশ জনসংখ্যার নমুনা টেস্টের একটা মাইলস্টোন পেরোবে রাজ্য। কিন্তু তাতেও করোনা আক্রান্ত রোগী, যাদের হাসপাতালে ভরতির ক্ষেত্রে হয়রানি কমছে না। বরং নিত্যদিনই হাসপাতাল না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার অধীন এলাকায় চালু হল নতুন নিয়ম।

কী সেই নিয়ম? হাসপাতালে যাওয়ার পর যদি কোনও রোগীকে সেই হাসপাতাল ভরতি নিতে না পারে, তাহলে রোগীর পরিজনদের আর চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই। অন্য হাসপাতালে রেফার করলে শয্যা বুক করে দিতে হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকেই। তখন ব্যবহার করা হবে ‘রেফারেল কোড’। তবে সব ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না, কেবল করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব তথা কলকাতা পুরসভার দায়িত্বে থাকা নোডাল অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় তা জানান।

আসলে সমস্যা যেখানে হচ্ছে তা হল, অন্যান্য রোগ নিয়ে অনেক উপসর্গহীন রোগী হাসপাতালে যাচ্ছেন। সেই সময় তাঁদের করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অনেক রোগীরই রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। তখন নন কোভিড হাসপাতাল থেকে রোগীদের বলা হচ্ছে কোভিড হাসপাতালে যেতে। কিন্তু অনেক সময়ই কোভিড হাসপাতালগুলিতে গিয়ে বেড পাচ্ছে না রোগীর পরিবার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও বেড পাওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে বৈঠকে বসেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার প্রশাসনিক মণ্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ, চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ কুমার, আইএমএ-র রাজ্য সম্পাদক শান্তনু সেন প্রমুখ। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘কোনও হাসপাতালে যাওয়ার পর কোনও রোগী করোনা পজিটিভ হলে তাঁদের সরকারি বা সরকার অনুমোদিত করোনা হাসপাতালে বেড বুক করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে রেফারেল নম্বর দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির মাঝেই রোগী ফেরানোর অভিযোগ শুধু বেসরকারি ক্ষেত্রে নয়, সরকারি ক্ষেত্রেও বারবার উঠেছে। তাই জুন মাসেই নোটিফিকেশন জারি করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়ে দেয়, কোনও পরিস্থিতিতেই রোগী (করোনা হোক বা নাই হোক) ফেরানো যাবে না। সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগী ফেরানোর অভিযোগ সত্যি হলে সার্ভিস রুল অনুযায়ী সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্যি হলে বাতিল করা হতে লাইসেন্সও। যদিও সেই নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনও হেরফের হয়নি বলে অভিযোগ। তাই এবার কলকাতা পুরসভা অঞ্চলে চালু করা হচ্ছে নতুন নিয়ম। সূত্র: এই সময়

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *